বাংলা ভাষার বর্ণ ও ধ্বনি প্রকরণ :: আজকের টপিক স্বরধ্বনি

এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 8
    Shares

‘স্টুডেন্ট কেয়ারে’ সকলকে স্বাগতম। সকলে কুশলে রয়েছেন আশাকরছি। অনলাই্ন পড়াশোনা করাকে অনুপ্রানীত করার জন্য আমরা সদা সচেষ্ট। আমরা আমাদের পোর্টালে বিভিন্ন ধরণের জানা অজানা বিষয় নিয়ে আলচনা করে এসেছি এবং ভবিষ্যতেও একি ভাবে এগিয়ে যাবো। আপনারা আমাদের সাথে প্রতিনিয়ত সঙ্গ দিলে আমাদের পথ চলা সহজতর হবে। যাই হোক, আমাদের আজকের বিষয় বাংলা। এই বাংলা বিষয়টির মধ্যে একটি বৃহত্তর অংশ জুড়ে রয়েছে বাংলা ব্যকরণ। বাংলা ব্যকরণের মধ্যে রয়েছে- “বর্ণ ও ধ্বনি প্রকরণ”। আমাদের আজকের টপিক- “স্বরধ্বনি”

মুখ থেকে নিঃসৃত ও নিয়ন্ত্রিত ক্ষুদ্রতম আওয়াজ কে ধ্বনি বলে। যেমনঃ পিতা= প্‌+ ই + ত+ আ –এর প্রতিটি ধ্বনি। যে সকল বর্ণ অন্য বর্ণের সাহায্য ছাড়াই স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয় তাদের বলে স্বরধ্বনি। যেমন – অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ। ১১টি স্বরধ্বনি রয়েছে।

  • মৌলিক স্বর- যে সব স্বরধ্বনি গুলিকে বিশ্লেষণ করা যায় না তাদের বলে মৌলিক স্বর ধ্বনি। যেমন- অ, আ, ই, উ, অ্যা ও। মোট ৭টি রয়েছে।

আরও পড়ুন – ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বই, উপন্যাস ও তার লেখক

  • যৌগিক স্বর- দুটি স্বরধ্বনি যুক্ত হয়ে যখন একটি স্বরধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় বা যে সমস্ত স্বর ধ্বনি কে বিশ্লেষন করতে দুটি স্বরধ্বনি পেয়ে থাকি তাদের যৌগিক স্বর বা যুক্তস্বর বলে- যেমন- ও + ই= ঐ, অ + ই= ঐ, ও+উ = ঔ ইত্যাদি।
  • হ্রস্ব স্বর- যে সকল স্বরধ্বনি গুলিকে উচ্চারণ করএ কম সময় লাগে, তাদের হ্রস্ব স্বর বলে। যেমন- অ, ই, উ, ঋ। মোট ৪টি হলেও, বাংলা ভাষায় ‘ঋ’ স্বর উচ্চারিত হয় না। তাই তিনটি হ্রস্ব স্বর কেই ধরা হয়ে থাকে।
  • দীর্ঘ স্বর- যে সকল স্বরধ্বনি গুলিকে উচ্চারণ করতে দীর্ঘ সময় লেগে থাকে তাদের দীর্ঘ স্বর ধ্বনি বলে। যেমন- আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ঔ ।
  • প্লুত স্বর- গান গাওয়ার সময় অথবা আবেগ প্রকাশের সময় অথবা অনেক দূরের কোনো ব্যক্তিকে ডাকার সময় কোনো স্বরকে অতিমাত্রায় টেনে দীর্ঘ করা হয়ে থাকে, তখন তাকে প্লুত স্বর বলে। উদাহরণ- মধু হে – এ – এ – এ।
  • কুঞ্চিত স্বর- যে স্বর ধ্বনি উচ্চারণ করতে গেলে ‘ওষ্ঠ’ দুটি কুঞ্চিত হয়, সেই স্বর ধ্বনিকে বলে কুঞ্চিত স্বর। যথা- অ, উ, ও।
  • সংবৃত স্বর- যে স্বর ধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখগ্বহর সংবৃত বা সংকুচিত হয়, সেই স্বর ধ্বনিকে কুঞ্চিত স্বর ধ্বনি বলে। যেমন- ই, উ।
  • সম্মুখস্থ স্বরধ্বনি- যে স্বর ধ্বনিকে উচ্চারণের সময় জিহ্বা সামনের দিকে প্রসারিত হয়ে পরে তাদের সম্মুখস্থ স্বর ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ই, ই, অ্যা, আ।
  • পশ্চাদ্ভাগস্থ স্বর ধ্বনি- যে স্বর ধ্বনিকে উচ্চারণের সময় জিহ্বা পেছনের দিকে আকৃষ্ট হয় তাদের পশ্চাদ্ভগস্থ স্বর ধ্বনি বলে। যেমন- উ, ও, অ, আ।
  • সানুনাসিক স্বরধ্বনি- যে স্বর ধ্বনি উচ্চারণের সময় নাসিকার সাহায্য প্রযোজন হয়, তাদের সানুনাসিক স্বর বলে। যেমন- আঁকা, আঁচল, চাঁদ, কাঁদা।
টেবিলের আকারে স্বর ধ্বনির বিভিন্ন বিভাগগুলি দেখানো হল
মৌলিক স্বর- অ, আ, ই, উ, অ্যা ও
যৌগিক স্বর- ও + ই= ঐ, অ + ই= ঐ, ও+উ = ঔ
হ্রস্ব স্বর- অ, ই, উ, ঋ
দীর্ঘ স্বর- আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ঔ
প্লুত স্বর- মধু হে – এ – এ – এ
কুঞ্চিত স্বর- অ, উ, ও
সংবৃত স্বর- ই, উ
সম্মুখস্থ স্বরধ্বনি- ই, ই, অ্যা, আ
পশ্চাদ্ভাগস্থ স্বর ধ্বনি- উ, ও, অ, আ
সানুনাসিক স্বরধ্বনি- আঁকা, আঁচল, চাঁদ, কাঁদা


এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 8
    Shares

One thought on “বাংলা ভাষার বর্ণ ও ধ্বনি প্রকরণ :: আজকের টপিক স্বরধ্বনি

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: স্টুডেন্টস কেয়ার কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত !!