মহীখাত (Geosynclines ) তত্বের আলোকে ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি তত্ত্ব

এখান থেকে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

মহীখাত

→ ভঙ্গিল পর্বত :

সাধারণত সংনমন শক্তির প্রভাবে পাললিক শিলাস্তরে প্রচুর চাপ সৃষ্টি হয়ে থাকে। এই চাপের ফলে তরঙ্গের ন্যায় ভাঁজের সৃষ্টি হয়। একটি সুগভীর একাধিক পাললিক শিলার স্তরে এমন ভাঁজের সৃষ্টি হয়ে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয়ে থাকে।

https://t.me/scareofficial

→ সংনমন ও সম্প্রসারণ :

অভিসারী পাতসীমান্ত বরাবর একরকম পার্শ্বচাপ হল সংনমন। ধরা যাক একটা চাদরে দুদিক থেকে হাতের গতিকে পরস্পরের দিকে নিয়ে এলে ( ➡️⇐) একধরনের চাপ পড়ে এই শক্তিকেই বলা হয় সংনমন। দুদিকে সমান চাপ হলে একটা বা একাধিক প্রতিসম ভাজ তৈরি হয়। অন্যদিকে যেকোনো একদিকে চাপ বেশি হলে অপ্রতিসম ভাজ তৈরি হয়। যেমন : আবৃত্ত ভাজ , সমপ্রবন ভাজ , রিকাবমেন্ট ভাজ , থ্রাস্ট ও ন্যাপ । অন্যদিকে শিলাস্তরে চাপ বিপরীত দিকে হলে টান সৃষ্টি হয় এরফলে ফাটল বা চ্যুতি দেখা যায় একে সম্প্রসারণ বল বলে (⇐➡️)।

হিমালয় পর্বতমালা সৃষ্টি তত্ব :

→ মহীখাত তত্ব ( Geosyncline theory) :

এই তত্বটির প্রবক্তা হলেন কোবার(১৯২৫)। সাধারণত ভূপৃষ্ঠের অগভীর দৈর্ঘ্য প্রস্থের অনুপাতে কম এমন খাতকে মহীখাত বলা হয়। এই মহীখাত সাধারণ অগভীর সমুদ্র। হিমালয় পর্বতমালা সৃষ্টি হয়েছে টেথিস সাগর নামক মহীখাত থেকে। যার উত্তরে আছে আঙ্গারাল্যান্ড ও দক্ষিণে গন্ডোয়ানাল্যান্ড।

[ভূগোলের অধ্যায় ভিত্তিক আলোচনা, এখানে ক্লিক করুণ]

ভূ অভ্যন্তরের পরিচলন স্রোতের প্রভাবে আঙ্গারাল্যান্ড ও গন্ডোয়ানা ল্যাণ্ড পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসায় টেথিসের প্রস্থ আরো কমতে থাকে এবং পরবর্তীতে টেথিসের পলি ভাজ খেয়ে হিমালয় পর্বত তৈরি করে। সাধারণত মেসোজোয়িক , ক্রিটেশিয়াস যুগে প্রাথমিক হিমালয় গঠন শুরু হলেও মূল টেকটোনিক সংঘর্ষ হয় সিনজোয়িক যুগে। কোবারের তত্বের তিনটি পর্যায় হল :

১. লিথোজেনেসিস :

লিথোজেনেসিস

Litho শব্দের অর্থ হল শিলা। এই পর্যায়ে চারপাশের অঞ্চল ও জল নির্গম প্রণালীর মাধ্যমে টেথিস সাগরের চারপাশে ক্ষয়ীভূত শিলা টেথিস সাগরের তলদেশে ধীরে ধীরে জমা হয় একাধিক পাললিক শিলাস্তরে। আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবনের ফলেই বোঝা বাহিত হয়ে টেথিসের তলদেশে জমা হয়।

২. ওরোজেনেসিস :

ওরোজেনেসিস

Oros শব্দের অর্থ হল পর্বত। এই পর্যায়ে আঙ্গারা ও গন্ডোয়ানা ল্যাণ্ড এগিয়ে আসায় প্রবল চাপ পরে টেথিসের শিলাস্তরে ভাজ খেয়ে হিমালয় পর্বত সৃষ্টি হতে থাকে। এই পর্যায় মূল পর্বত গঠনের পর্যায় ।

৩. গ্লিপ্টোজেনেসিস :

গ্লিপ্টোজেনেসিস

এই পর্যায়ে চাপ আরো প্রবল হয় ফলে ভঙ্গের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। তৈরি হয় ইনভারশন অফ রিলিফ। অর্থাৎ ভূমির পরিবর্তন। অধভঙ্গ গুলিতে চাপ বাড়ার ফলে ভাজের গঠন পরিবর্তিত হয়। উর্দ্ধ ভঙ্গের জায়গায় অধভঙ্গ আবার অধভঙ্গের জায়গায় উর্দ্ধভঙ্গের সরণ ঘটতে থাকে। অর্থাৎ চাপের তারতম্যের ফলে ভূমিরূপের পরিবর্তন হল ইনভারশন অফ রিলিফ

আর পর্বত বেষ্টিত প্রায় সমতল যেখানে  নিবিড়তা কম এমন পর্বতবেষ্টিত মালভূমিকে মিডিয়ান মাস বলে।

→ তত্ত্বটি একটি মডেলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হল

মহীখাত (Geosynclines ) তত্বের আলোকে ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি তত্ত্ব মডেল
মহীখাত (Geosynclines ) তত্বের আলোকে ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি তত্ত্ব মডেল

♦পাত সংস্থান তত্ব :

সাধারণত পাতসংস্থান তত্বের মাধ্যমেই হিমালয় পর্বত গঠনের ব্যাখ্যা যথাযথ হয়ে থাকে। আমরা জানি ভূত্বক অবিচ্ছিন্ন নয় বরং খন্ডে খন্ডে বিভক্ত। এই পাত গুলি সাধারণত গুরুমন্ডলের উপর ভাসমান অবস্থায় থাকে। যা পরিচলন স্রোতের প্রভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিভ্রমণ করে বা ঘুরে বেড়ায়। পাত সংস্থান তত্বের প্রবক্তা লি পিচো। সাধারণত হিমালয় পর্বত যেখানে অবস্থিত সেটি হল একটি পাতসীমান্ত অঞ্চল । মানে একটা পাতের শুরু অন্যপাতের শেষ। এই দুটি পাতের মধ্যে একটি হল ভারতীয় পাত ও অন্যটি হলো ইউরেশীয় পাত। এই দুটি পাত কাছাকাছি আসতে ( অভিসারী) থাকায়। মধ্যভাগের পলিতে ভাজ খেয়ে হিমালয় পর্বত তৈরি হয়েছে। এই পাতদ্বয়ের প্রবেশ ও ঘর্ষণ এখনো চলতে থাকায় হিমালয় পর্বত বেশি ভূমিকম্প প্রবন। ও উত্তর দিকে চাপের প্রভাব সবথেকে বেশি তাই পর্যায়ক্রমে একাধিক উচ্চতার ভাজ উত্তর থেকে দক্ষিণে দেখা যায়। এই পর্বতে নানা প্রকৃতির ভাজ ও অধভঙ্গ অঞ্চলে উপত্যকা দেখা যায়।


লেখা: অর্ঘ্য বটব্যাল

গ্রাফিক্স ও পর্যালোচনা: অর্ঘ্য বটব্যাল


আপনার জন্য আরও রয়েছে পড়ুন

স্টুডেন্টস কেয়ারে লেখা পাঠাতে হলে এখানে ক্লিক করুণ

স্টুডেন্টস কেয়ার মূলত ইউজার জেনারেটেড বা স্টুডেন্টস কেয়ারের পাঠক-লেখকদের তৈরি করা কন্টেন্ট প্রকাশ করছে। আপনি চাইলে ৩০০ বা তার অধীক শব্দের মাঝে যে কোনো পছন্দমত লেখা, ছোট গল্প, সাধারণ জ্ঞান, জানা অজানা তথ্য, কারেন্ট আপডেট, ছাত্র-ছাত্রীদের উপযোগী লেখা, ফিচার স্টুডেন্টস কেয়ারে কন্ট্রিবিউট করতে পারেন। ১-৩ দিনের মাঝে লেখা মানসম্মত হলে তা প্রকাশিত হবে। কন্ট্রিবিউশন কন্টেন্টের জন্য কোনো সম্মানীর ব্যবস্থা নেই। তবে স্টুডেন্টস কেয়ার টিমের কন্টেন্ট রাইটার টিমে যুক্ত হতে এটা আপনাকে সহযোগিতা করবে। লেখা প্রকাশের আগে আমাদের নীতিমালা ভালো করে পড়ে নিন। যে কোনো প্রয়োজনে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

Students Care

স্টুডেন্টস কেয়ারে সকলকে স্বাগতম! বাংলা ভাষায় জ্ঞান চর্চার সমস্ত খবরা-খবরের একটি অনলাইন পোর্টাল "স্টুডেন্ট কেয়ার"। পশ্চিমবঙ্গের সকল বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের এবং সমস্ত চাকুরী প্রার্থীদের জন্য, এছাড়াও সকল জ্ঞান পিপাসু জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিবর্গদের সুবিধার্থে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। 

error: স্টুডেন্টস কেয়ার কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত !!