ইসরোর (ISRO) পরবর্তী মহাকাশ গবেষণা প্রকল্পগুলি কী কী জানুন

এখান থেকে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

ইসরোর (ISRO) পরবর্তী মহাকাশ গবেষণা প্রকল্পগুলি

♥ ইসরোর এই ১০টি সাফল্য গর্বিত করেছে গোটা ভারতকে

১৯৬৯ সালে পথ চলা শুরু করে মাত্র এই কয়েকদশকে মহাকাশ গবেষণায় ভারত যে সাফল্য অর্জন করেছে তা এককথায় অকল্পনীয়। গোটা বিশ্ব এখন মহাকাশ গবেষণায় ভারতের সাফল্যকে কুর্ণিশ করছে।গত কয়েকদশকে বারবার ইসরোর সাফল্য ভারতবাসীকে গর্বিত করেছে। ইসরোর (ISRO) পরবর্তী মহাকাশ গবেষণা প্রকল্পগুলি এবং এর সাথে  ১০টি সাফল্যের কথা জেনে নিন একনজরে।

১. ১০৪টি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, ২০১৭

২. প্রথমবারের চেষ্টায় মঙ্গলে মহাকাশ যান পাঠিয়ে রেকর্ড করে ইসরো।

৩. ২০০৮ সালে চন্দ্রের কক্ষপথে মহাকাশ যান পাঠায় ভারত। এর ফলে ষষ্ঠ দেশ হিসাবে এই এলিট প্যানেলে জায়গা করে নেয় ইসরো।

৪. আইআরএনএসএস, ২০১৬-ইসরো তৈরি করে ভারতের নিজের স্যাটেলাইট নেভিগেশন মিশন সিস্টেম। যা সমুদ্রে দিক নির্ণয়ে বিশেষ সহায়ক হবে। ফলে বিপর্যয় মোকাবিলা ও জাহাজ হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাকে সহজেই মোকাবিলা করা সহজ হবে।

৫. INSAT নামে জনপ্রিয় ৯টি উপগ্রহকে ১৯৮৩ সালে মহাকাশে পাঠানো হয়। তথ্য ও সম্প্রচার ব্যবস্থাকে দক্ষিণ এশিয়ায় মজবুত করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছিল।

৬. ১৯৯৩ সাল থেকে পিএসএলভি বা পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল ১৯টি ভিন্ন দেশের ৪০ উপগ্রহকে সফলভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করেছে।

৭. আরএসভি, ২০১৬- মাত্র ৯৫ কোটি টাকা খরচে তৈরি পুনর্ব্যবহারযোগ্য লঞ্চ ভেহিকল বা রিইউজেবল লঞ্চ ভেহিকল বা স্পেশ শাটল বানিয়ে ইতিহাস তৈরি করে ইসরো।

৮. আর্যভট্ট, ১৯৭৫- ভারতের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ। মহাকাশ গবেষনার শুরু।

৯. জিএলএসভি-এমকে৩, ২০১৭-  ইসরো সফলভাবে জিএলএসভি-এমকে৩ পরীক্ষা করেছে। ফলে মহাকাশে মানুষ পাঠাতে পারে এমন দেশগুলির তালিকায় নিজের নাম ভারত নথিভুক্ত করতে পেরেছে।

১০. ব্যবসায়িক কাজে প্রয়োজনীয় উপগ্রহ উৎক্ষেপণ এখনকারদিনে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বড় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। কারণ মোবাইল, ইন্টারনেট ও বিভিন্ন দেশের অন্য কোম্পানিগুলি হাই-টেক কমিউনিকেশনকে বেশি করে আপন করে নিচ্ছে।

ভারতের ভবিষ্যৎ মহাকাশ গবেষণার পরিকল্পনা গুলি সম্পর্কে কিছু তথ্য আমরা জেনে নেবো।

♥ ইসরোর ভবিষ্যৎ মহাকাশ মিশন পরিকল্পনা

১. আদিত্য এল-১ ভারতের সূর্য অভিযান

ইসরোর চেয়ারম্যান সূর্য-অভিযান আদিত্য এল-১ – এর বিষয়ে জানান যে, ২০২০ সালে এই কর্মসূচি শুরু করা হবে। এর উদ্দেশ্য হ’ল – সূর্যের করোনা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা এবং জলবায়ু পরিবর্তনে তার প্রভাব। ২০২৩ সালে বুধ নিয়ে আরেকটি অভিযান চালানো হবে। বুধের জলবায়ু এবং তার উপরিভাগের বিষয়ে এই অভিযানে বিস্তারিতভাবে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে।

Aditya – Solar Mission

ইসরোর চেয়ারম্যান সিবন জানিয়েছেন সূর্যের ব্যাপারে আমাদের আরো অনেক কিছু জানা বাকি আছে ৷ “আদিত্য-এল১” স্পেসক্রাফ্টকে সান-আর্থ “ল্যাগারেঞ্জ-১” (L-1) পয়েন্টের কাছে হ্যালো অরবিটে রাখা হবে ৷ হ্যালো অরবিটে রাখার সুবিধা সবসময় সূর্যকে দেখা যাবে (অকাল্টেশন অথবা গ্রহনের সমস্যা নেই) ৷

“আদিত্য এল-১” কে বানানো হয়েছে প্রধানত সূর্যের করোনা নিয়ে অধ্যয়ন করার জন্য ৷ইসরো জানায়, সৌর মিশনে কোরোনার পাশাপাশি সূর্যের ফোটোস্ফিয়ার, ক্রোমোস্ফিয়ার পর্যবেক্ষণ করবে আদিত্য এল১। সূর্যের চারপাশে ঘিরে থাকা কণা নিয়ে বিশদ গবেষণার সহায়ক হবে ওই মিশন। আগামী বছরের মধ্যে মিশন বাস্তবায়নে কাজও চলছে জোরকদমে।

২. সেমি-ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন প্রোজেক্ট

স্পেসএক্স কর্তৃক ফ্যালকন হেভিয়ের দ্বারা বহুল সফল উৎক্ষেপনের পরে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে ইসরোও একটি সুপার-হেভি লঞ্চার বিকাশের জন্য কাজ করছে যা 50 থেকে 60 টনের মতো ভারী পেলোড বহন করতে পারে। ইসরো-রতরফ থেকে জানানো হচ্ছে যে আপাতত সেমি-ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন তৈরির কাজ চলছে।

সেমি-ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন প্রোজেক্ট
সেমি-ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন প্রোজেক্ট

ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তি কী? খুব কম তাপমাত্রায় পদার্থের আচরণকে কাজে লাগানোর প্রযুক্তিকেই বলে ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তি। রকেটে ব্যবহৃত সব জ্বালানীর মধ্যে হাইড্রোজেনই সবচেয়ে বেশি বল (থ্রাস্ট) প্রয়োগ করতে পারে। পৃথিবীর মাটি ছেড়ে যাওয়ার জন্য এই থ্রাস্ট খুব দরকার। কিন্তু হাইড্রোজেন বায়বীয় অবস্থায় ব্যবহার করাও বেশ কঠিন। অতএব তরল হাইড্রোজেন ব্যবহার করা হল। হাইড্রোজেন ( – ২৫০) ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতায় তরল হয়। আর জ্বালানী পোড়াতে শুধু হাইড্রোজেন হলেও চলে না, অক্সিজেনও দরকার। অক্সিজেনের গলনাঙ্ক (-৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। এবার এত কম তাপমাত্রায় রকেটের মধ্যে থাকা অন্যান্য পদার্থের অবস্থারও বেশ খানিকটা পরিবর্তন হয়। সব মিলিয়ে ব্যাপারটা বেশ জটিল। আপাতত জিএসএলভি এমকে-৩ রকেটের কোনো নক্সার পরিবর্তন না করে তরল জ্বালানির জায়গাতে সেমি-ক্রায়ো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে(ছবিতে দেখতে পাবেন ব্যপারটি)।

৩. মিশন গগনযান (মহাকাশে মানুষ পাঠানোর প্রকল্প)

২০০৪ সাল থেকে থাকে এ নিয়ে প্রস্তুতি চলছিল ইসরোর। মহাকাশে মানুষ পাঠানোর প্রকল্প ইসরো-র এতদিনের অন্যান্য সফল প্রকল্পের থেকে অনেকটাই পৃথক। চাঁদে বা মঙ্গলে মহাকাশযান পাঠানোর তুলনাতেও এই প্রকল্প অনেক বেশি কঠিন। মহাকাশে মানুষ পাঠানোর জন্য ইসরোকে এমন একটা পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে, যাতে পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে মহাকাশযান শূন্যে যাওয়ার পরে সেটিকে আবার ফিরিয়ে আনা যায়। একই সঙ্গে এমন একটা মহাকাশযান বানাতে হবে যাতে মহকাশচারী মানুষ মহাশূন্যে পৃথিবীর মতো অবস্থায় থাকতে পারেন। গত কয়েক বছরে ইসরো এসব নিয়ে বেশ কিছু সফল পরীক্ষা করলেও, এ সংক্রান্ত আরও অনেক পরীক্ষা বাকি রয়েছে।

Crew Module along with the escape capsule on display at the Bangalore Space Expo in 2018. Image courtesy: ISRO/Twitter
Crew Module along with the escape capsule on display at the Bangalore Space Expo in 2018. Image courtesy: ISRO/Twitter

স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তির আগেই ভারত মহাকাশে নভঃচারী পাঠাবে। এই মিশনে সরকার ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। ইসরো ভারতীয় বায়ুসেনার সঙ্গে গগনযানের বিষয়ে একটি সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করেছে। এই সমঝোতাপত্র অনুযায়ী, বায়ুসেনা নভঃচারীদের বাছাই করে প্রশিক্ষণ দেবে। ২০২২ সালের মধ্যেই গগনযান তার অভিযান শুরু করবে। পৃথিবীর কক্ষপথের নিম্নভাগে ১২০ – ৪০০ কিলোমিটারের মধ্যে ৩ – ৭ দিন এই নভঃচারীরা অভিযান চালাবেন।

[Read More- What are the top upcoming projects from ISRO?]

৪. ভারত নিজস্ব স্পেস স্টেশন প্রকল্প

২০ টনের স্পেস স্টেশন ২০৩০-এর মধ্যে চালু করার ভাবনাচিন্তা রয়েছে ভারতের। প্রাথমিকভাবে প্রায় মাধ্যাকর্ষণহীন (মাইক্রোগ্র্যাভিটি) অবস্থায় থাকলে মানবদেহে কী কী পরিবর্তন আসতে পারে, তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে সেখানে। ১৫-২০ দিন মহাকাশচারীরা যাতে সেখানে থাকতে পারেন, তার ব্যবস্থাও থাকবে। তবে, এই স্পেস স্টেশনের ব্যাপারে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে গগনযান মিশন সম্পূর্ণ হওয়ার পর।

ভারত নিজস্ব স্পেস স্টেশন প্রকল্প

মহাকাশে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে যে ‘গগনযান মিশন’ ইসরো শুরু করেছে, স্পেস স্টেশন তৈরিকে সেই মিশনেরই বর্ধিত অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। শিবনের কথায়, ‘হিউম্যান স্পেস মিশন চালু হওয়ার পরও আমাদের গগনযান প্রোগ্রামটিকে চালু রাখতে হবে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই ভারত নিজস্ব স্পেস স্টেশনের পরিকল্পনা করছে।’

নিজস্ব স্পেস স্টেশন তৈরির ক্ষেত্রে কোনও দেশের সহযোগিতা নেবে না ইসরো। আমেরিকা, রাশিয়া, চিন ছাড়া আর কোনও দেশের নিজস্ব স্পেস স্টেশন নেই। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে ভারতের নাম।

৫. রিইউজেবল লঞ্চ ভেহিকলস-টেকনোলজি ডেমোনস্ট্রেটর (আরএলভি-টিডি)

রিইউজেবল লঞ্চ ভেহিকলস-টেকনোলজি ডেমোনস্ট্রেটর
রিইউজেবল লঞ্চ ভেহিকলস-টেকনোলজি ডেমোনস্ট্রেটর

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (indian space research organisation) ISRO এখন পৃথিবীর বাইরে শাটল যান পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে এটিকে নির্মাণ করছে ভারত। শাটল যানটির নাম রাখা হয়েছে রিইউজেবল লঞ্চ ভেইকেল-টেকনোলজি ডেমোনস্ট্রেটর (Reusable Launch Vehicle – Technology Demonstrator). টল যানটির আকৃতি এরোপ্লেনের মতোই। ওজন মাত্র ১.৭৫ টন। দৈর্ঘেও কম, সাড়ে ছ’মিটার। কার্বন-কার্বন কম্পোজিট দিয়ে তৈরি এই শাটল যানটির বৈশিষ্ট্য, এটির বাইরের আবরণ উচ্চ তাপমাত্রা (৫-৭ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস) সহ্য করতে সক্ষম।

[মহাকাশ সম্পর্কে আরও তথ্য জানুন ক্লিক করুণ]

৬. মঙ্গলযান-২ (Mars Orbiter Mission-2)

২০২২-২৩ সালের দিকে ভারত মঙ্গলযান-২ মিশন শুরু করতে চলেছে। এই বিষয়ে সরকারের অনুমতিও মিলে গিয়েছে।

৭. চন্দ্রযান-৩

২০২২ সাল নাগাদ চন্দ্রযান-৩ মিশন শুরু করতে চলেছে। ইসরো প্রধান এই বিষয়ে ঘোষণা ও করে দিয়েছেন। চন্দ্রযান-২ এ বিক্রম ল্যান্ডারের মাধ্যমে প্রজ্ঞান রোবোট কে চাঁদের মাটিতে নামাতে অক্ষম হলেও চন্দ্রযান-৩ তে ইসরো যথাসাধ্য চেষ্টা করবে চাঁদের মাটিতে রোবোট নামাতে। এখন শুধু অপেক্ষা!

৮. ভারতের শুক্র অভিযান বা শুক্রযান মিশন (mission to Venus)

আমাদের প্রতিবেশী গ্রহ শুক্র। পৃহিবীর যমজ গ্রহ ও বলা হয়ে থাকে শুক্রকে। এই শুক্র অভিযাবে নামতে চলেছে ইসরো। ইসরোর সূত্রানুসারে ২০২৫ সাল নাগাদ এই মিশন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রের জলবায়ু, মাটি, ভূতত্ব প্রভৃতি বিষয়গুলি নিয়ে গবেষণাই হল এই মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য। এই মিশন পরিকল্পনা স্তরে রয়েছে।

এছাড়াও ইসরোর ভবিষ্যৎ কোনোমিশন থেকে থাকে তাহলে আমাদের মেল ([email protected] করে জানাতে পারেন

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো,মহাকাশ গবেষণায় ভারত রচনা,ভারতের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র, ভারতের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত,ইসরো সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত,ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত,ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক কে, ইসরো কোথায় অবস্থিত, ইসরোর (ISRO) পরবর্তী মহাকাশ গবেষণা প্রকল্পগুলি, “আদিত্য এল-১” ,CHANDRAYAAN 2 CHANDRAYAAN2FEATURE, CHANDRAYAAN2THEMOON EXPOSAT MISSION EXPOSAT PLANETARY EXPLORATION GAGANYAAN INTERPLANETARY MISSIONS ISRO INTERPLANETARY MISSIONS ISRO MISSIONSNEUTRON STARS SCITECHSHUKRAYAAN SPACE EXPLORATION

এখান থেকে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

কমেন্ট বক্সে মতামত জানান

error: স্টুডেন্টস কেয়ার কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত !!