Gsuite

বিশ্ব অরন্য দিবস ২০২০, ইতিহাস, থিম ও পালনের উদ্দেশ্য

এখান থেকে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

বিশ্ব অরন্য দিবস ২০২০ || International Day of Forests (IDF) 2020

আপনারা সবাই অবগত হয়েছেন যে আজ ২১ শে মার্চ, অর্থাৎ আজকের দিনে পৃথিবীর সব জায়গাতে দিন ও রাত্রি সমান। এই দিনে ছায়াবৃত্ত সবকটি অক্ষরেখাকে সমান দুটি ভাগে ভাগ করে। আজকের দিনেই পৃথিবীর সব জায়গাতে ১২ ঘন্টা দিন ও ১২ ঘন্টা রাত্রি বিরাজ করে।। অর্থাৎ এককথায় আজকের দিনকে বলা হয় ‘মহাবিষূব’ বা বসন্ত বিষুব

এছারাও, আজকের দিনটি আরো একটি বিশেষ দিন হিসাবে সমগ্র মানব জাতী্র কাছে খুবি গুরুত্বপুর্ণ। সেই বিষয়ে আমরা আজ আলোচনা করবো।।

আজ হল ” বিশ্ব অরন্য দিবস ” 

প্রতি বছরের মতো এবছরেও আমরা বিশ্ব বন দিবস পালিত করলাম। প্রতি বছর ২১ শে মার্চ আমরা বিশ্ব বনভুমি দিবস পালন করে থাকি।

[আরও পড়ুন- ভারতের বনভূমির পরিমান ২০১৯ PDF]

★ বিশ্ব অরন্য হিবসের ইতিহাস

সর্বপ্রথম বিশ্ব বনসৃজন দিন পালন করা শুরু হয় ১৯৭১ সালে, ২৩তম General Assembly of European Confederation of Agriculture সম্মেলনে। এরপর United Nations Food and Agriculture Organization ঠিক করেন যে প্রতি বছর ২১ শে মার্চ বিশ্ব বনসৃজন দিবস পালন করা হবে।

       কিন্তু ২০১২ সালে The United Nations General Assembly ঘোষোনা করেন যে ২১ শে মার্চ কে প্রতি বছর বিশ্ব অরন্য দিবশ হিসাবে পালন করা হবে।

★ অরন্য দিবস পালন করার কারন কি?

জীবমণ্ডলের স্থলভাগে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলতে বোঝায় অজস্র গাছপালা ঢাকা সবুজ তৃণভূমি বা বনভূমি, যেখানে উদ্ভিদের সংখ্যা প্রাণীদের তুলনায় অতি বিপুল এবং বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী যেখানে পর্যাপ্ত খাদ্য ও আশ্রয় পেয়ে বংশপরম্পরায় বসবাস করছে।

আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন এখান থেকে

         বিগত দু’ শতকে বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষের হাতে উদ্ভিদ ও প্রাণীসহ ক্রমবর্ধমান হারে বিশাল অরণ্য ভূমির অবলুপ্তি এবং জলভূমির বাস্তুতন্ত্রের অবক্ষয়ের ফলে জীবমণ্ডলের ক্ষতি হয়েছে অপূরণীয়।

      এইভাবে অরণ্যের ব্যাপক অবক্ষয়ের ফলে পৃথিবীতে বিশালসংখ্যক উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির জীবন আজ বিপন্ন, তাদের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে, তারা অবলুপ্তির পথে চলেছে। প্রাণীদের মধ্যে পাখি, স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ ও উভচর প্রাণীদের জীবন বেশি বিপন্ন অন্যান্য পর্বের প্রাণীদের থেকে। পৃথিবীতে অতি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল, সমুদ্রবেষ্টিত দ্বীপ অথবা শীতল তুন্দ্রা অঞ্চলে এমন কিছু বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী বাস করে, পৃথিবীর অন্য কোথাও যাদের দেখা পাওয়া যায় না, এদের ‘এন্ডেমিক’ জীব বলে। যেমন, হিমালয়ের তুষার চিতা, ব্রহ্মকমল, নীল অর্কিড, তুন্দ্রা অঞ্চলে ভালুক (পোলার বিয়ার) বা গ্যালাপাগোস দ্বীপের উভচর সরীসৃপ ইগুয়ানা। ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে এমন অনেক প্রজাতির এন্ডেমিক উদ্ভিদ ও প্রাণী আছে। এদের বাস্তুতন্ত্র আজ বিপন্ন, নিজেদের বাসভূমি থেকে এরা উত্খাত হলে পৃথিবী থেকে এরা সম্পূর্ণ অবলুপ্ত হয়ে যাবে। এই সংকটের বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতেই ২১ মার্চ বিশ্ব অরণ্য দিবস পালন করা হয়।

★ কিভাবে বিশ্ব অরন্য দিবস পালিত হয়?

আমাদের দেশে এই দিন টা কে খুব গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয়ে গাছ লাগানোর কর্মসূচী নিয়ে ‘গাছ লাগাও প্রান বাঁচাও’ স্লোগান গ্রহন করে এই বিশেষ দিন কে সরণ করা হয়।

★বিশ্ব অরন্য দিবশের থিম-

১। ২০১৬ সালে বিশ্ব অরন্য দিবসের থিম ছিল– “Forests and water”।

২। ২০১৭ সালে বিশ্ব অরন্য দিবসের থিম ছিল– “Forests & Energy”।

৩। ২০১৮ সালে বিশ্ব অরন্য দিবসের থিম ছিল – “Forests and Sustainable Cities”

৪। ২০১৯ সালে বিশ্ব অরন্য দিবসের থিম ছিল- “Forests and Educaion”

৫। ২০২০ সালে বিশ্ব অরন্য দিবসের থিম-  “Forests and Biodiversity”

অরণ্য ও জীববৈচিত্র্য

২০২০ সালের বিশ্ব অরন্য দিবস অর্থৎ International Day of Forests (IDF) এর থিম হল Forests and Biodiversity” বা “অরণ্য ও জীববৈচিত্র্য”। অরণ্য এবং জীববৈচিত্র্য দুটি বিষয় একে অপরের সাথে সংযুক্ত। একে অপরের পরিপূরক। জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে গাছপালা অপরিহার্য। অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যবস্থা উদ্ভিদই করে থাকে। গাছপালা থেকে মানুষ খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি, গৃহ নির্মাণ ইত্যাদি তো পেয়েই থাকে, অধিকন্তু গাছপালা পরিবেশ সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে মানুষের মনে আনন্দের উদ্রেকও ঘটায়। পরিবেশ দূষণ কমিয়ে এবং পরিবেশ সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে উদ্ভিদ মানুষের শারীরিক স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্য উভয়ের উন্নতিতে সবচেয়ে সহায়ক ভ‚মিকা পালন করে।

জীবন জগতে খাদ্য বা শক্তির জোগান উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে, অন্য কোনো প্রাণী নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। সৌরশক্তিকে ব্যবহার করে সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদ কার্বোহাইড্রেট বা গ্লুকোজ নামক মৌলিক খাদ্য উপাদান প্রস্তুত করে। তারপর পর্যায়ক্রমে তার রূপান্তর ঘটে এক শ্রেণি থেকে অন্য শ্রেণিতে স্থানান্তরিত হয়ে শক্তির জোগান দেয়। প্রত্যেক প্রাণীই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শক্তির জন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল, তা সে মাংসাশী হোক বা নিরামিষাশিই হোক। তাই উদ্ভিদ হলো উৎপাদক আর বাকি সব প্রাণীই ভক্ষক। এক কথায় উদ্ভিদ ছাড়া এ পৃথিবীতে জীবন অকল্পনীয়।

উদ্ভিদ বাতাসে বিভিন্ন গ্যাসের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা অত্যধিক হলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, কারণ ওই গ্যাস তাপ শোষণ করে রাখে। বর্তমানে গ্রিন হাউস এফেক্ট নামে যা সুপরিচিত, সেটা এ কারণেই হয়। উদ্ভিদ বাতাস থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে গ্রিন হাউস এফেক্টের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। অপরদিকে বাতাসে অক্সিজেন যোগ করে বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত বজায় রাখতে সাহায্য করে। এভাবে উদ্ভিদ বায়ুদূষণ কম করে বাতাসকে বিশুদ্ধ রাখে। যা জীববৈচিত্র্যর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

উদ্ভিদ বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে। উদ্ভিদের অভাবে উর্বর উৎপাদনশীল মাটি ধীরে ধীরে মরুভ‚মিতে পরিণত হয়। মাটির উর্বরতা বজায় রাখার জন্য দরকার বৃষ্টিপাত। বৃষ্টিপাত ঘটাতে আবশ্যক গাছপালা।

অ্যাগ্রোফরেস্ট্রি বা বনভিত্তিক চাষাবাদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খাসি জাতির অ্যাগ্রোফরেস্ট্রি বা বনভিত্তিক চাষাবাদ চাষপদ্ধতি জীবিকা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের এক বিশেষ ও অনন্যসাধারণ উদাহরণ। খাসি জাতি এ পদ্ধতিতে পান চাষ করে আসছে। পান চাষের এই পদ্ধতিকে “পানজুম” বলা হয়।

কোনো প্রকার রাসায়নিক সার, কীটনাশক বা ওষুধ ব্যবহার না করে খাসি ভাষায় ‘ব্রি’ নামে প্রচলিত এ অ্যাগ্রোফরেস্ট্রি চাষপদ্ধতির চর্চা বাংলাদেশ এবং ভারতের পাহাড়ি প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসছে৷

অ্যাগ্রোফরেস্ট্রি চাষপদ্ধতি বনভূমি সুরক্ষার পাশাপাশি মাটি সংরক্ষণ, নির্মল বায়ু এবং বায়ুস্তরে বিশুদ্ধতা বজায় রাখতে ও উৎপাদন করতে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে সক্ষম৷

সাধারণত ঘন বনে আচ্ছাদিত ‘পানজুম’ ইকোসিস্টেম ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পরীক্ষিতভাবে সক্ষম৷

Students Care

স্টুডেন্টস কেয়ারে সকলকে স্বাগতম! বাংলা ভাষায় জ্ঞান চর্চার সমস্ত খবরা-খবরের একটি অনলাইন পোর্টাল "স্টুডেন্ট কেয়ার"। পশ্চিমবঙ্গের সকল বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের এবং সমস্ত চাকুরী প্রার্থীদের জন্য, এছাড়াও সকল জ্ঞান পিপাসু জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিবর্গদের সুবিধার্থে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।

error: স্টুডেন্টস কেয়ার কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত !!