বিশ্ব অরন্য দিবস ২০১৮ || ইতিহাস, থিম ও পালনের উদ্দেশ্য

এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 221
    Shares

বিশ্ব অরন্য দিবস ২০১৮ || International Day of Forests (IDF) 2018

আপনারা সবাই অবগত হয়েছেন যে আজ ২১ শে মার্চ, অর্থাৎ আজকের দিনে পৃথিবীর সব জায়গাতে দিন ও রাত্রি সমান। এই দিনে ছায়াবৃত্ত সবকটি অক্ষরেখাকে সমান দুটি ভাগে ভাগ করে। আজকের দিনেই পৃথিবীর সব জায়গাতে ১২ ঘন্টা দিন ও ১২ ঘন্টা রাত্রি বিরাজ করে।। অর্থাৎ এককথায় আজকের দিনকে বলা হয় ‘মহাবিষূব’ বা বসন্ত বিষুব

এছারাও, আজকের দিনটি আরো একটি বিশেষ দিন হিসাবে সমগ্র মানব জাতী্র কাছে খুবি গুরুত্বপুর্ণ। সেই বিষয়ে আমরা আজ আলোচনা করবো।।

আজ হল “বিশ্ব অরন্য দিবস” 

প্রতি বছরের মতো এবছরেও আমরা বিশ্ব বন দিবস পালিত করলাম। প্রতি বছর ২১ শে মার্চ আমরা বিশ্ব বনভুমি দিবস পালন করে থাকি।

★ বিশ্ব অরন্য হিবসের ইতিহাস

সর্বপ্রথম বিশ্ব বনসৃজন দিন পালন করা শুরু হয় ১৯৭১ সালে, ২৩তম General Assembly of European Confederation of Agriculture সম্মেলনে। এরপর United Nations Food and Agriculture Organization ঠিক করেন যে প্রতি বছর ২১ শে মার্চ বিশ্ব বনসৃজন দিবস পালন করা হবে।

       কিন্তু ২০১২ সালে The United Nations General Assembly ঘোষোনা করেন যে ২১ শে মার্চ কে প্রতি বছর বিশ্ব অরন্য দিবশ হিসাবে পালন করা হবে।

 

★ অরন্য দিবস পালন করার কারন কি?

জীবমণ্ডলের স্থলভাগে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলতে বোঝায় অজস্র গাছপালা ঢাকা সবুজ তৃণভূমি বা বনভূমি, যেখানে উদ্ভিদের সংখ্যা প্রাণীদের তুলনায় অতি বিপুল এবং বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী যেখানে পর্যাপ্ত খাদ্য ও আশ্রয় পেয়ে বংশপরম্পরায় বসবাস করছে।

আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন এখান থেকে

         বিগত দু’ শতকে বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষের হাতে উদ্ভিদ ও প্রাণীসহ ক্রমবর্ধমান হারে বিশাল অরণ্য ভূমির অবলুপ্তি এবং জলভূমির বাস্তুতন্ত্রের অবক্ষয়ের ফলে জীবমণ্ডলের ক্ষতি হয়েছে অপূরণীয়।

      এইভাবে অরণ্যের ব্যাপক অবক্ষয়ের ফলে পৃথিবীতে বিশালসংখ্যক উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির জীবন আজ বিপন্ন, তাদের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে, তারা অবলুপ্তির পথে চলেছে। প্রাণীদের মধ্যে পাখি, স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ ও উভচর প্রাণীদের জীবন বেশি বিপন্ন অন্যান্য পর্বের প্রাণীদের থেকে। পৃথিবীতে অতি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল, সমুদ্রবেষ্টিত দ্বীপ অথবা শীতল তুন্দ্রা অঞ্চলে এমন কিছু বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী বাস করে, পৃথিবীর অন্য কোথাও যাদের দেখা পাওয়া যায় না, এদের ‘এন্ডেমিক’ জীব বলে। যেমন, হিমালয়ের তুষার চিতা, ব্রহ্মকমল, নীল অর্কিড, তুন্দ্রা অঞ্চলে ভালুক (পোলার বিয়ার) বা গ্যালাপাগোস দ্বীপের উভচর সরীসৃপ ইগুয়ানা। ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে এমন অনেক প্রজাতির এন্ডেমিক উদ্ভিদ ও প্রাণী আছে। এদের বাস্তুতন্ত্র আজ বিপন্ন, নিজেদের বাসভূমি থেকে এরা উত্খাত হলে পৃথিবী থেকে এরা সম্পূর্ণ অবলুপ্ত হয়ে যাবে। এই সংকটের বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতেই ২১ মার্চ বিশ্ব অরণ্য দিবস পালন করা হয়।

★ কিভাবে বিশ্ব অরন্য দিবস পালিত হয়?

আমাদের দেশে এই দিন টা কে খুব গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয়ে গাছ লাগানোর কর্মসূচী নিয়ে ‘গাছ লাগাও প্রান বাঁচাও’ স্লোগান গ্রহন করে এই বিশেষ দিন কে সরণ করা হয়।

Forests and Sustainable Cities
www.un.org


★বিশ্ব অরন্য দিবশের থিম-

১। ২০১৬ সালে বিশ্ব অরন্য দিবসের থিম ছিল– “Forests and water”।

২। ২০১৭ সালে বিশ্ব অরন্য দিবসের থিম ছিল– “Forests & Energy”।

৩। ২০১৮ সালে বিশ্ব অরন্য দিবসের থিম – “Forests and Sustainable Cities”

 

★ ২০১৮ সালের বিশ্ব অরন্য দিবসের থিমের মূল্যায়ন-

আমরা জেনেছি ২০১৮ সালের বিশ্ব অরন্য দিবস অর্থৎ International Day of Forests (IDF) এর থিম হল Forests and Sustainable Cities” বা “বন ও সুস্থায়ী শহর”। এবার দেখে নেওয়া যাক শহরের ওপর গাছ বা বনের প্রভাবগুলি কি কি? শহর ও শহরতলি অঞ্চলে গাছ লাগানোর ফলে কি কি প্রভাব পরে সেগুলি একনজরে দেখে নেওয়া যাক-

১. অরন্য এবং গাছ কার্বন সঞ্চয় করতে পারে, যার ফলে শহুরে এলাকায় এবং তার আশপাশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

২. গাছগুলি আমাদের স্থানীয় জলবায়ুকে উন্নতর করতে সাহায্য করে।

৩. শহুরে এলাকায় পরিকল্পনা মাফিক গাছ লাগানোর ফলে, ওই স্থানটির বাতাসের তাপমাত্রা প্রায় ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত কমাতে পারে, যা আমাদের এয়ার কন্ডিশনিং চাহিদা ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। এছাড়াও শহুরে এলাকাতে গাছ গুলি একটি ছাকনির মত কাজ করে অর্থাৎ বায়ুতে ঘু্রে বেড়ানো দুষিত সুক্ষ্ণ কণাগুলিকে অপসারণ করতে সাহায্য করে।

৪. শহরগুলির বাইরের অংশে লাগানো গাছ ও বনভূমি থেকে পাওয়া কাঠের জ্বালানী রান্নার কাজে এবং ঘর গরম করার জন্য পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি চাহিদার কিছুটা পুড়ন করে , যেগুলি প্রাকৃতিক বনগুলির বা স্বাভাভিক অরন্যের স্রাস রোধ করে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির উপর আমাদের নির্ভরতা হ্রাস করে।

৫. শহর এবং শহুরে এলাকাতে বনসৃজনের ফলে নিকটবর্তী শহরের জলের অপচয় রোধ করে, ভূমিক্ষয় রোধ করে, বন্যা প্রতিরোধ করে পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

Green Belt
হিট আইসল্যান্ড ও ভূ-উষ্ণায়ন রোধের জন্য এই ভাবে শহুরে এলাকাতে ‘গ্রীন বেল্ট’ রূপায়ন করা যেতে পারে (সূত্র)

৬. বন সহ শহুরে সবুজ এলাকা, সক্রিয় এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারাকে উত্সাহিত করে, মানসিক স্বাস্থ্যকে উন্নত করে, রোগ প্রতিরোধ করে এবং জনসাধারণের জন্য সামাজিক স্থান প্রদান করে।

৭. শহর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বনসৃজনের মাধ্যমে হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং শহরের সুন্দরবন প্রকল্পকে উৎসাহিত করে, গতিশীল, অনলস এবং সমৃদ্ধ সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলা যেতে পারে।

৮. বেশ ভালভাবে পরিচালিত গাছ ও বনগুলি নিকটবর্তি শহরগুলির মধ্যে বাসস্থান, খাদ্য এবং অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণীদের সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য বজায় রাখা এবং বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

তথ্য সংগ্রহে- স্টুডেন্টস কেয়ার

তথ্য সূত্র- http://www.un.org


এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 221
    Shares
error: স্টুডেন্টস কেয়ার কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত !!