Facebook-কি আপনার সকল তথ্য চুরি করে রাখছে? প্রমাণ সহকারে দেখুন

এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 65
    Shares

ফেসবুক আপনার সকল তথ্যর ইতিহাস সংরক্ষিত করে রাখে

বন্ধুরা, আপনি যদি ফেসবুক ব্যবহার করেন তাহলে অবশ্যই শুনে থাকবেন #DeleteFacebook এর কথা। সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুককে নিয়ে চলছে বহু আলোচনা সমালচনা। ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকাকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ফেসবুকের বড় ধরনের দরপতনও ঘটেছে। ফেসবুক থেকে নেওয়া ৫ কোটিরও বেশি মানুষের তথ্য ব্যবহার করেই মার্কিন নির্বাচনসহ বিশ্বের অন্যতম কিছু রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপে বিরাট অবদান রেখেছিল এই মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি।

এর ফলে টুটারের মাধ্যমে গোটা বিশ্বে শুরু হয়েছে ‘ডিলিট মাই ফেসবুক’ ট্রেন্ড যেখানে অসংখ্য ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের ফেসবুক মুছে ফেলছে। এদের মধ্যে রয়েছেন টেসলা এবং স্পেস এক্সের মালিক এবং প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক এবং ওয়াটসঅ্যাপের প্রতিষ্ঠাতাও।

এই ঘটনার পর সিএনএনের একটি সাক্ষাৎকারে ক্ষমাও চেয়েছেন ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী মার্ক জুকারবার্গ। দেখুন সেই সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি-

তবে সিএনএনের আরেক অনুসন্ধানে আরেক বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে। সিএনএনের প্রযুক্তিবিষয়ক সাংবাদিক সারা অ্যাশলি ও’ব্রায়ান সম্প্রতি নতুনভাবে এই বিষয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করেছেন। তার এই চেষ্টাতে তিনি তার ১৪ বছরের ফেসবুক ব্যবহারের সকল তথ্য ডাউনলোড দিয়েছিলেন এবং এটিকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন। তার প্রতিবেদনটি অনুবাদ করে তুলে ধরা হচ্ছে –

এই সামাজিক গণমাধ্যমের সকল ডাটা ডাউনলোড করার পর আমি একটি বিশাল তথ্যভাণ্ডার পেয়েছি যা গত ১৪ বছর ধরে আমার তথ্য সংগ্রহ করে চলছিল। আমি ২০০৪ সাল থেকে ফেসবুক ব্যবহার করে আসছি, এবং অবাক করার মত করেই এটি আমার সকল তথ্য সংগ্রহ করেছে।

এটিতে আমার মৃত দিদার ফোন নাম্বার ছিল যার কিনা কখনই কোন ফেসবুক একাউন্ট অথবা ইমেইল ছিল না! এটিতে আমার সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে সকল কথোপকথন সংরক্ষিত ছিল, যার সঙ্গে আমি ভেবেছিলাম সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলেছি। এই তথ্যভাণ্ডারে আমাকে অন্যরা কতবার ‘পোক’ করেছে তাও উল্লেখ ছিল। আমি এটাও দেখতে পাই যে কেট স্পেড নিউইয়র্ক এবং মেটলাইফের মত বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে আমার তথ্য ছিল।

আমার নিজের তথ্যের দিকে ফিরে চাওয়াটি শুধুমাত্র যে অস্বস্তিজনক ছিল তা নয়, এটি আমার কষ্টদায়ক অনেক স্মৃতি মনে করে দিয়েছে।

১৫ জিবি বড় ব্যক্তিগত তথ্যে ভরা এই তথ্যভাণ্ডারে আমার ‘ফ্রেন্ডশিপ’ এ থাকা সকল ব্যক্তিদেরকেও উল্লেখ করা আছে। এখানে দেখা যায় কবে আমি কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছি। এতে রয়েছে এমন কিছু মানুষের তথ্য যাদেরকে আমি নিজের জীবন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছি।

এতে সংরক্ষিত ছিল আমার এতবছরের সকল মেসেজ, যার মধ্যে অনেকগুলোই আমি মুছে ফেলেছিলাম।

 এই তথ্যভাণ্ডারের ‘কন্ট্যাক্ট ইনফো’ অংশে হাজার হাজার মানুষের কন্ট্যাক্ট রাখা ছিল, যাদের মধ্যে অনেকেরই সঙ্গে আমার এখন আর কোন সম্পর্ক নেই।

এত তথ্য দেখে আমার নিজের মাথাও ঘুরে গিয়েছিল। সূত্র : সিএনএন

কেন ডিলিট ফেসবুক হ্যাস ট্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে?

প্রথমেই আপনাদের জানিয়ে রাখি ফেসবুকের ইউজার বেস প্রায় ১ বিলিয়ন এর ও বেশি। এটা খুব বড় একটা সংখ্যা। পৃথিবীর প্রায় সকলেই ফেসবুক ব্যবহার করে, এর মধ্যে প্রায় ৫০ মিলিয়নের তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছে যে কোনো কারনেই হোক।

আপনার গোপনীয় তথ্য গুলি চুরি হয়েছে জানেন কি?

আপনাকে যদি এই কথা বলা হয় যে, আপনারও তথ্য চুরি হয়েছে বা হতে পারে তাহলে আপনার কেমন লাগবে? হয়ত বিশ্বাস না করে “স্টুডেন্টস কেয়ার” কে গালাগালি করবেন! বলবেন যা ইচ্ছে তাই বকে চলেছে প্রচার পাওয়ার জন্য!

আপনাদের মধ্যে অনেকেই হয়ত জানেন না যে, ফেসবুক আপনাদের প্রত্যেকটি তথ্য রেকর্ড করে রাখে অর্থাৎ আপনি যদি ২০১২ সালে আপনার ফেসবুক আই ডি বানিয়ে থাকেন তাহলে ২০১২ থেকে বর্তমান পর্যন্ত সমস্ত তথ্য। হ্যাঁ সমস্ত কিছুই যেমন ধরুণ- কাকে বন্ধুর অনুরোধ পাঠিয়েছেন, কার সাথে কি কি চ্যাট করেছেন, কার ছবিতে লাইক কমেন্ট করেছেন, আপনার কাছে কল এসেছে কিনা, কে কল করেছে, কতক্ষন বাদে কল করেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি।

এমনকি আপনার ফোনে কেউ মিসকল করলো, বা কল করল, আবার কেউ ফোনে টেক্স মেসেজ করল, কে করল, কোন নাম্বার থেকে করল সব তথ্য ফেসবুকের কাছে রেকর্ড থাকে। এবার ভাবছেন এরা কিসব বকে চলেছে, ফোনের কল লিস্ট এর সাথে ফেসবুকের সম্পর্ক কি? হতেই পারেনা এরকম। যদি ভেবে থাকেন তাহলে প্রমান পাওয়ার জন্য সম্পূর্ন লেখাটি পড়তে থাকুন।

এই ডাটা বা তথ্য গুলিকে নিয়ে ফেসবুক কি করে?

স্বাভাবিক ভাবে আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, ফেসবুক আমাদের তথ্য নিয়ে কি করবে? তাই না? আমাদের মত অতি সাধারণ জনগন এইগুলিকে খুব বেশি গভীর ভাবে নেই না, কিন্তু শুনুন তাহলে কি কাজে লাগে, আপনি যখন ফেসবুকে আপনার প্রোফাইলে ঘুরে বেরান বিভিন্ন ধরণের পোস্ট দেখেন তখন খেয়াল করবেন আপনাকে বিভিন্ন ধরণের ‘বিজ্ঞাপন’ দেখানো হয়, এবং সেই বিজ্ঞাপন গুলি আপনার পছন্দের সাথে একেবারে মিলে যায়! কেন বলুন তো? ফেসবুক কি জাদু বিদ্যা জানে? আপনার মনের ভাবনা পড়তে পারে? না, আসলে ফেসবুক আপনার সার্চ করা তথ্য গুলিকে ব্যবহার করে। সারাদিনে আপনি ইন্টারনেটে যে যে বিষয়গুলি সার্চ করেছেন সেগুলির তথ্য অনুসারে আপনাকে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শুধু ফেসবুক নয়, বিশ্বের এক নম্বর সার্চ ইঞ্জিন ‘গুগুল’ এই কাজে সবার আগে!

ফেসবুক আপনার ডাটা ব্যবহার কেন করে?

দেখুন আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় গনতান্ত্রিক দেশে বসবাস করি, আমরা সকলের নিজস্ব স্বাধীনতা রয়েছে, আমরা কি করব, কি খাবো, কি পড়বো সেগুলির সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজ আমাদের। অন্যরা কেন আমাদের বিষয়ে নাক গলাবে? এটাই ভাবছেন তাই না! তাহলে শুনুন, ফেসবুক হল বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, আর আমরা ওই ফেসবুক ব্যবহার করছি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, সারাদিন বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছি, বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে কথা বলছি তার বদলে ফেসবুক-কে কিছু দিচ্ছি কি? না কিছু দিচ্ছি না। তাহলে ফেসবুকের কি কোনো আয় হবে না? তারা কি সারা জীবন বিনামূল্যে পরিষেবা প্রদান করে যাবে? একদম না, আপনার সার্চ করা তথ্য গুলিকে ফেসবুক ব্যবহার করে এবং সেই অনুসারে বিভিন্ন ধরণের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ফেসবুক অর্থ উপার্জন করে!

ফেসবুকে সকল তথ্য রেকর্ড থাকে এর প্রমাণ কী?

আপনি অনেকক্ষণ ধরে হয়ত জানার চেষ্টা করছেন কিভাবে জানবেন যে আপনার সকল তথ্য ফেসবুকের কাছে রেকর্ড রয়েছে? তাই আপনাদের সামনে প্রমাণ সহ বিষয়টি উপস্থাপন করলাম। তার আগে বলে রাখি এই বিষয়ে আমরা নিজেরা প্রমাণ করে দেখেছি এবং ‘এই লেখাটি যে লিখছে তার ২০১২ থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রায় ১.৩ জিবি জিপ(Zip file) ফাইলের আকারে তথ্য ডাউনলোড করা সম্ভব হয়েছে’। তাহলে নিচের পর্যায়গুলি অনুসরণ করুন-

পর্যায় ১- সবার প্রথমে আপনি আপনার ফেসবুক আই ডি খুলে ফেলুন।(ফেসবুক অ্যাপ্স থেকে হবে না, কম্পিউটা্রে করতে হবে অথবা গুগুর ক্রোম থেকে https://m.facebook.com থেকে ‘m’ টি মুছে দিয়ে ‘https://www.facebook.com সার্চ করুন। নিচের ছবি দেখুন।)facebook

পর্যায়-২ এর পর আপনাকে সেটিংসে যেতে হবে। যাওয়ার পর ‘General Account Settings’ এর মধ্যে একেবারে নীচে লেখা রয়েছে দেখবেন ‘Download a copy of your Facebook data’। ওখানে ক্লিক করে পরের পর্যায়ে চলে যান।Facebook 2

পর্যায়-৩ এর পর আপনাকে দেখাবে ‘Download your information”. এবং নীচে সবুজ বক্সে লেখা থাকবে ‘Start my Archive”. ওখানে ক্লিক করুন।(নিচের ছবির মত) হয়ত আপনার আইডি পাসওরার্ড চাইবে (আমাকে চেয়েছিল)। এর পর আপনাকে একটি মেল করা হবে, যেখানে দুটি লিঙ্ক দেওয়া থাকবে। কোথাও ক্লিক করার দরকার নেই, অপেক্ষা করুন দ্বিতীয় ইমেল আসা পর্যন্ত।

পর্যায়-৪ এর পর আপনাকে কিছুক্ষন অপেক্ষা করতে হবে। যদি আপনার আইডি অনেক পুরানো হয় তাহলে প্রায় ১০ থেকে ৬০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এবং তারপর আবার একটি ই-মেল পাবেন আপনি। ওখানে একটি লিঙ্ক দেওয়া থাকবে ওটাতে ক্লিক করে আবার আপনার ফেসবুকে চলে যান।

পর্যায়-৫ এর পর আপনি দেখতে পাবেন সবুজ বক্সের মধ্যে লেখা রয়েছে- “Download Archive”। ওখানে ক্লিক করলে আপনার সমস্ত তথ্য ‘জিপ ফাইলের’ আকারে ডাউনলোড হতে থাকবে। যেখানে আপনার সমস্ত তথ্যগুলি রেকর্ড রয়েছে সেগুলি আপনি দেখতে পাবেন।ফেসবুক কি ডিলিট করতে হবে?

পর্যায়-৬ এর পর ওই জিপ ফাইল টাকে এক্স ট্রাক করে (প্রত্যেক ফোনে করতে পারবেন, নাহলে কম্পিউটারে করে নিতে পারবেন). ফাইল গুলো অবশ্য .html ফরমেটে দেওয়া থাকবে। ফাইলের মধ্যে থেকে ব্রাউসার ফাইলটিকে খুলে আপনার সমস্ত তথ্য একটি একটি করে দেখতে পাবেন।

এবার ভালো করে খুঁজে দেখুন আপনার কন্টেক্ট ইনফোতে আপনার সমস্ত ধরণের কন্টেক্ট গুলি ওখানেই রয়েছে।

এই তথ্যগুলি কখন কাজ করবে?

মনে রাখবেন এই তথ্য অর্থাৎ “আপনার ফোনের কন্টাক্ট ইনফো গুলি তখনি দেখাবে যদি আপনি ফেসবুক অ্যাপ্সটি ইন্সটল করে রাখেন বা কোনো সময় ব্যবহার করেছেন তখনি দেখাবে”। এছাড়া বাকি তথ্যগুলি তো যে কোনো ওয়েব ব্রাউসার ব্যবহার করলেই সেখান থেকে রেকর্ড হয়ে যাবে তাই না।

এখান থেকে আপনার লাভ হতে পারে কি?

যদি আপনি ফেসবুক অ্যাপ্স ব্যবহার করে থাকেন এবং রেকর্ডে আপনার আগের ফোন নাম্বার গুলি থেকে থাকে তাহলে আপনাদের মধ্যে অনেকের হারিয়ে যাওয়া ফোন নম্বর গুলি আবার খুঁজে পেতে পারেন, সেই দিক থেকে আপনার লাভ ই হল তাই না! এছাড়া হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের খুঁজে পেতে পারেন! অর্থাৎ ফেসবুক থেকে ডিলিট হওয়া মেসেজ, ছবি, ভিডিও, ফ্রেন্ডলিষ্ট ফিরিয়ে আনতে এটি সাহায্য করে।

এবার আসা যাক এই #DeleteFacebook এই ক্যাম্পিং কেন চলছে?

আসলে ২০১৪ সালে একটি অ্যাপ্স এর সাথে ফেসবুকের ব্যবসা হয়েছিল, যেই অ্যাপ্সটির নাম “ নো মাই ডিজিটাল লাইফ”, যেটি একটি অ্যালেক্সান্ডার ডেভেলাপার বানিয়েছিলেন। এই অ্যাপ্লিকেসন টা কিভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছিল ভাবছেন তাই না?

#Deletefacebook

শুনুন, অনেকেই লক্ষ করে থাকবেন ফেসবুকে  অনেকে অনেক ধরণের গেম খেলে থাকেন, অথবা অনেক গেমে রিকুয়েস্ট পেয়ে থাকবেন, ওই রিকুয়েস্ট গুলিকে আপনি অনুমতি দিয়ে দেওয়ার ফলে আপনার তথ্য ওই অ্যাপ্লিকেশনটি নিয়ে নেয় (নাম, ইমেন আইডি, নাম্বার ইত্যাদি)। এবার হয়েছে কি, এই অ্যাপ্লিকেশনটি ফেসবুকের অজান্তে অতিরিক্ত তথ্য নিজের সার্ভারে নিয়ে নিয়েছিল। প্রায় ৫ কোটি জনের তথ্য এই ভাবে চুরি হয়েছিল (ফেসবুকের বাইরে ) সেই সময়। এরপর ২০১৫ সালে ফেসবুক ব্যপারটি জানতে পারে এবং তখনি ওই অ্যাপ্লিকেশনকে ডিলিট করে দেওয়া হয়।

এবার বুঝুন বর্তমান দিনে সবচেয়ে বেশি দামী জিনিস কোনটি? টাকার থেকেও দামী জিনিস আপনার সম্পর্কে তথ্য। যদি আপনার তথ্য অন্য কেউ জানতে পারে তাহলে সে যে কোনো উপায়ে লাভবান হতে পারে। ঠিক যেমন গুগুল থেকে শুরু করে ফেসবুক এরা সকলেই আপনার তথ্য ব্যবহার করে ওই তথ্য গুলিকে কোনো ‘বিজ্ঞাপন সংস্থার’ সাথে ভাগ করে আপনার পছন্দ মত বিজ্ঞাপন আপনাদের দেখায় এবং এটাই ফেসবুক বা গুগগুলের আয়ের উৎস। বর্তমান দিনে বলা হয় “Data is the new Currency”.

ফেসবুকের ব্যবহার ছেড়ে দিলে কি আপনার তথ্য সুরক্ষিত?

ফেসবুক কি আপনার তথ্য চুরি করছে?

এমনটা একেবারেই ভাববেন না। আপনি ফেসবুক ব্যবহার করা ছেড়ে দিলেন কিন্তু আপনি গুগুল ব্যবহার না করে থাকতে পারবেন? আপনি আপনার সখের মোবাইলের বিভিন্ন ধরণের অ্যাপ্স ব্যবহার না করে থাকতে পারবেন বর্তমান দিনে? পারবেন না নিশ্চই। তাহলেতো আপনার সুরক্ষা ব্যবস্থাই থাকলনা। কিন্তু বর্তমান দিনে অনলাইন ছাড়া কোনো কাজ ই হয়ত হবেনা এই বিশ্বে। তাহলে উপায় কি ? আপনি জিমেল খুলবেন? তখন গুগুল আপনার সমস্ত তথ্য নিয়ে নেবে, ব্যঙ্ক, থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরীক্ষার ফর্মফিলাপ সবেতেই আপনার তথ্য চুরি হওয়ার ভয় থেকেই যায়।

বর্তমানে ফেসবুকের বিস্তার জালিকার মত ছড়িয়ে পড়েছে
বর্তমানে ফেসবুকের বিস্তার জালিকার মত ছড়িয়ে পড়েছে

তথ্য চুরি থেকে আপনি সুরক্ষা পাবেন কি করে?

দেখুন ২০১৮ তে এসে আপনি কোনো কাজ অফলাইনে করতে পারবেন না। তাই আপনার সুরক্ষার উপায় আপনাকে নিজেকেই খুঁজতে হবে। আপনাকে সতর্ক হতে হবে, স্মার্ট হতে হবে তবেই আপনি আপনার সুরক্ষা করতে পারবেন।
যেমন ধরুন আপনি কোনো ওয়েবসাইটে গেলেন, সেখানে আপনাকে ‘রেজিস্টার’ করতে বলা হল, কিন্তু আপনি সব দিক না জেনে না বুঝে রেজিস্টার করে ফেললেন। তাহলে দোষটা আপনার।

সবার আগে ওই ওয়েবসাইটের সম্পর্কে জানুন, ঘেটে দেখুন সাইটটি আসল নাকি কোনো প্রতারক। এবং তার পর লক্ষ রাখুন আপনার কাছ থেকে কি কি তথ্য চাওয়া হয়েছে? যদি আপনার মনে হয় ওই তথ্য গুলি দিলে আপনার ক্ষতি হতে পারে তাহলে সেটা আপনাকেই নির্বাচন করতে হবে। এছাড়াও আপনি কোনো অ্যাপ্স প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করার আগে ওই অ্যাপ্সের রেটিং এবং সকল তথ্য গুলি একটু জেনে বুঝে ডাউনলোড করুন (এখন একি রকম দেখতে অনেক ফেক অ্যাপ্স রয়েছে)। অ্যাপ্স ইন্সটল করার আগে যখন নোটিস দেখায় কিসের কিসের অনুমতি (Permission ) চাইছে ওই অ্যাপস্টি, তখন খেয়াল রাখুন আপনার কন্টেক্টস এর তথ্য চাইছে কিনা। একটু সতর্ক থাকুন কেমন।

এছাড়া সম্ভব হলে ফেসবুক অ্যাপ্স ব্যবহার ছেড়ে দিয়ে ‘গুগুল ক্রোম’ ব্যবহার করুন, ইউসি ব্রাউসার ব্যবহার বন্ধ করতে পারেন। প্লে স্টোর ছাড়া অন্যান্য স্থান থেকে অ্যাপ্স ডাউনলোড না করাই ভালো। “আপনার ভবিষ্যতের লাইফ পার্টনার কে হবে”, “আপনি মধুচন্দ্রিমা কোথায় করতে যাবেন”, আপনাকে কোন বলিউডের নায়ক/নায়িকার মত দেখতে” ইত্যাদি ইত্যাদির পরীক্ষা না করাই ভালো হবে আপনার পক্ষে! তবে শুনে খুশী হবেন সম্ভবত এই বছরের শেষের দিকে ভারতের সংবিধানে তথ্য সংগ্রহ আইন যুক্ত হতে চলেছে। ভাল থাকুন সকলে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 65
    Shares
error: স্টুডেন্টস কেয়ার কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত !!