আজ ৩ ডিসেম্বর বিপ্লবী শহীদ ক্ষুদিরাম বসু জন্মদিন || জন্মদিনে তোমায় স্মরণে

এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 415
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    415
    Shares

আজ ৩ ডিসেম্বর বিপ্লবী শহীদ ক্ষুদিরাম বসু জন্মদিন

স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী শহীদ ক্ষুদিরাম বসু (জন্মঃ- ৩ ডিসেম্বর, ১৮৮৯ – মৃত্যুঃ- ১১ আগস্ট, ১৯০৮)

হয়তো তার মা ও কখনো ভাবতেই পারেনি মাত্র তিন মুঠো ক্ষুদের বিনিময়ে তিনি যাকে বিক্রি করে দিচ্ছেন , সে বড় হয়ে অখণ্ড ভারতের স্বাধীনতা ও বিপ্লবী আন্দোলনের সবথেকে উজ্জ্বল নক্ষত্র দের মধ্যে একটি হয়ে তরুন প্রজন্ম কে বিপ্লবের আপোষহীন ধারার দিশা ও পথ দেখিয়ে যাবেন যুগের পর যুগ ধরে । 

১৮৮৯ সালে আজকের দিনেই জন্ম নিয়েছিলেন ক্ষুদিরাম বসু । গল্প আছে , মা লক্ষ্মীপ্রিয় দেবী পরপর অনেক কজন সন্তানকে হারানোর পর ক্ষুদিরাম কে হারাবার ভয়ে মাত্র তিন মুঠো ক্ষুদের বিনিময়ে তাকে তার দিদি অপরূপা দেবীর কাছে বিক্রি করে দেন , সেই থেকেই তাকে সবাই ক্ষুদিরাম বলে চেনে ।

ছোটো বেলায় ক্ষুদিরাম সমাজের অথাকথিত ভালো ছেলেদের মধ্যে ছিলেন না । তিনি মেধাবী হলেও শিক্ষকদের কাছে দুরন্তপনার জন্য প্রয়ই তিরস্কার পেতেন । তৎকালীন কুসংস্কার আচ্ছন্ন ভারতের ঘোর কালো কুসংস্কার গুলো তার হৃদয়ের দিপ্তি কে ডোবাতে পারেনি , স্পর্শ করতে পারেনি । তিনি তার সহপাঠী দের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ভুত তাড়ানোর ও মাড়ার দল , যেগুলো কে আমরা এখন যুক্তিবাদী সংগঠন বলি । এর জন্য তাকে বড়দের কাছ থেকে অনেক তিরস্কার ও পেতে হয়েছিল । কিন্তু ডঃ কালামের কথা সত্য করে ক্লাসের শেষ বেঞ্চ থেকেই উঠে এসেছিল সেই বিপ্লবী স্ফুলিঙ্গ ।

রতনে রতন চেনে , সত্তেন্দ্রনাথ বসুর চোখে অচিরেই ধরা পরলেন ক্ষুদিরাম বসু । ক্ষুদিরাম বসুর অন্তরে থাকা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের প্রতি বিদ্বেষ অনুভব করে ক্ষুদিরাম কে তিনি তার সশস্ত্র বিপ্লবী দল ” যুগান্তর “এর সদস্য করে নেন । আর তখন থেকেই তার বাড়ির সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায় ।

KhudiRam

১৯০৬ সালে সম্ভবত মেদিনিপুরের মারাঠা কেল্লায় এক শিল্প প্রদর্শনী আয়োজিত হয় । ক্ষুদিরাম গেছিলেন সেখানে ” সোনার বাংলা ” নামক বিপ্লবী পত্রিকা বিক্রির জন্য । সেই সময় এক পুলিস তার হাতের কব্জি ধরে বলে ” কেয়া কার রেহে হো ? ” , ক্ষুদিরাম সজোরে তার নাকে এক ঘুসি বসিয়ে বলে ” কুছ পরোয়া নেহি ” । , বয়েস কম হওয়ায় কিছুদিন আত্ম গোপনে থাকার পর পুলিস মামলা তুলে নেয় । কিন্তু ব্রিটিশ শাসনকে একটা ঘুসি মেরেই এই আগুন তো নেভার ছিল না । তার উদ্দেশ্য যে ছিল দেশ কে স্বাধীন করা , ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভীত কাঁপিয়ে দেওয়া ।

অচিরেই সুযোগ এলো । অত্যাচারী ম্যাজিস্ট্রেট বিপ্লবিদের যে কোনও মূল্যে দমন করতে ব্যাস্ত । ক্ষুদিরাম আর প্রফুল্ল চাকির ওপর দায়িত্ব পড়ল কিংসফোর্ড কে হত্যা করার । হয়তো এই খবর গয়েন্দা রাও পেয়ে যায় , কিংসফোর্ড এর বদলি হয়ে যায় মজফফরপুরে । কিন্তু ক্ষুদিরাম তো হার মানার পাত্র না। টানা কিছুদিন তার গতিবিধির ওপর নজর রাখার পর ১৯০৮ সালের ৩০ শে এপ্রিল তারা লুকিয়ে থাকলো পথের ধারে জঙ্গলে , বোমা হাতে নিয় । কিন্তু লক্ষভ্রস্ট হল তারা । সেই বিস্ফোরণে কিংসফোর্ড বেঁচে যায় , কিন্তু দুক্ষজনক ভাবে মারা যায় অ্যাডভোকেট কেনেডির স্ত্রী ও তাঁর মেয়ে ।

দুজনেই ধরা পরলেন । প্রফুল্ল নিজ রিবলভড়ের গুলীতে আত্মত্যাগ করলেন । কিন্তু ক্ষুদিরাম ধরা দিলেন । ফাঁসির রায় হল ক্ষুদিরামের । ফাঁসির মঞ্চে ওঠার আগে জখন ক্ষুদিরামের কাছে তার শেষ ইচ্ছা জানতে চাওয়া হল , তখন সে বলেছিল ” আমি খুব ভালো বোমা বানাতে পারি , সমস্ত ভারতবাসী কে তা সিখিয়ে দিয়ে যেতে চাই ” ।, তার বুকে বন্ধি থাকা বারুদের গন্ধে সেদিন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বুক কেঁপেছিল দুরুদুরু । তাই রায় হওয়ার মাত্র ৭ মাসের মধ্যে ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট তার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছিল ।

ক্ষুদিরাম আজকে আমাদের মধ্যে নেই । আমরা তাকে নিয়ে জোক বানিয়েছি ” পুরকিতে ক্ষুদিরাম ” ।, আমাদের নিজেদের কাপুরুষত্ব ঢাকতে আমরা বলি ক্ষুদিরাম বোকা ছিল , যে মাত্র ১৮ বছর বয়েসে অপরের ব্রেন ওয়াস খেয়ে প্রান দিয়েছিল । আজকে দুনিয়া জুড়ে চেষ্টা চলছে বিপ্লবের আপোষহীন ধারার এইসব ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার। আমরা মত্ত হয়েছি ভোগবাদের সাগরে সাতার কাটতে । কিন্তু যতবার জতভাবেই আমরা ক্ষুদিরাম কে বোকা বলি না কেন , খুদিরাম প্রতিবার অট্ট হাস্যে আমাদের দিকে আঙ্গুল তুলে বলে কাপুরুষ । ক্ষুদিরাম নিজের জীবন দিয়ে আমাদের দিয়ে গেলো স্বাধীন ভারতের বাতাস । আর আমরা তার জন্মদিনে সকাল সকাল ভাট বাজির স্ট্যাটাস দিতে ব্যাস্ত । টিভি তে , খবরে , কোথাও নেই তার কথা । কিন্তু ক্ষুদিরাম রয়েগেছে প্রজন্মের মাঝে , মানুষের মাঝে । ক্ষুদিরাম হাসছে তাদের অন্তরে , জ্বালিয়ে রেখেছে বিপ্লবের শিখা ।

আজকের দিনে সকলে মিলে একবার গাইতে ইচ্ছে করে–

“একবার বিদায় দে-মা ঘুরে আসি।
হাসি হাসি পরব ফাঁসি দেখবে জগৎবাসী।
কলের বোমা তৈরি করে
দাঁড়িয়ে ছিলেম রাস্তার ধারে মাগো,
বড়লাটকে মারতে গিয়ে
মারলাম আরেক ইংল্যান্ডবাসী।
শনিবার বেলা দশটার পরে
জজকোর্টেতে লোক না ধরে মাগো
হল অভিরামের দ্বীপ চালান মা ক্ষুদিরামের ফাঁসি
দশ মাস দশদিন পরে
জন্ম নেব মাসির ঘরে মাগো
তখন যদি না চিনতে পারিস দেখবি গলায় ফাঁসি”

সৌজন্যে- কৌশিক দাসের পাতা থেকে

Students Care

স্টুডেন্টস কেয়ারে সকলকে স্বাগতম! বাংলা ভাষায় জ্ঞান চর্চার সমস্ত খবরা-খবরের একটি অনলাইন পোর্টাল "স্টুডেন্ট কেয়ার"। পশ্চিমবঙ্গের সকল বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের এবং সমস্ত চাকুরী প্রার্থীদের জন্য, এছাড়াও সকল জ্ঞান পিপাসু জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিবর্গদের সুবিধার্থে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। 

error: স্টুডেন্টস কেয়ার কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত !!