মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় স্থান না পাওয়া সেরা দশ জনের জীবনকথা

এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 49
    Shares

পরিচ্ছেদসমূহ

মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় স্থান না পাওয়া সেরা দশ জনের জীবনকথা

মাধ্যমিক ২০১৮ সফল ভাবে সমাপ্ত হল। এবছর পাশের হার ৮৫.৪৯%। এবছর মেধাতালিকাতে মোট ৫৬জন স্থান পেয়েছে। তাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন, শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তোমরা পরবর্তী লক্ষে এগিয়ে যাও। কিন্তু আমরা আজ এমন কয়েকজন কৃতি দের  কে নিয়ে আলোচনা করবো যারা হয়ত মেধা তালিকাতে স্থান পায়নি কিন্তু তাদের জীবন যুদ্ধ সম্পর্কে সকলের জানা দরকার। আমরা আজ এরকমি কয়েকজনের সম্পর্কে আপনাদের জানাবো।  আজ জানবো মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় স্থান না পাওয়া সেরা দশ জনের জীবনকথা

[আরও পড়ুন- মাধ্যমিক ২০১৮ ফলাফলের বিস্তারিত খবর]

♠ সম্পূর্ণ নিজের প্রচেষ্টায় ৬৭৯ নম্বর পেয়েও মেধা তালিকায় স্থান হলনা তাপসের

তাপস রায়। বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা। এবারের মাধ্যমিকে পেয়েছে ৬৭৯। আপনারা জানেন মেধা তালিকায় ৫৬ জন স্থান পেয়েছে। এবং যেই ১৪ জন দশম স্থান পেয়েছে তাদের প্রাপ্ত নম্বর ৬৮০। তাহলে হিসাবটা এমন দাঁড়ায় তাপস ওদের থেকে মাত্র এক নম্বর কম পেয়েছে। স্থান হয়নি মেধা তালিকায়। টেলিভিশন, সংবাদপত্রেও স্থান হয়নি, স্থান হয়নি বাংলার মানুষের মনেও! হবে কি করে? মেধা তালিকাতে স্থান হয়নি তো। কিন্তু তাপসের জীবন যুদ্ধের কথা আপনারা শুনলে আপনাদের সকলেই তাপসকে আপন করে নিতে চাইবেন।

সম্পূর্ণ নিজের প্রচেষ্টায় ৬৭৯ নম্বর পেয়েও মেধা তালিয়ার স্থান হলনা তাপসের
তাপসের প্রাপ্ত নম্বর দেখে নিন। (ছবি সূত্র- ফেসবুক)

দেগঙ্গা গ্রামের এক গরীব পরিবারের মেধাবী ছাত্র তাপস। ছোট বেলা থেকে দারিদ্রের অভাবের মধ্যে তাকে পড়াশোনা করতে হয়েছে। বর্তমান দিনে আপনারা সকলেই অবগত রয়েছে বা রেজাল্ট প্রকাশ পাওয়ার পরেই আপনারা কিছু কিছু প্রার্থীর মুখে শুনে থাকেন “প্রতিটা বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা করে গৃহশিক্ষক ছিল”। কিন্তু তাপসের সেই সুযোগ ছিলনা। ছিলনা আলাদা করে কোনো গৃহশিক্ষকক। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাই তাপসের প্রধান ভরসা। তাপস এর ফল পেয়েছে, অথচ ভাগ্যের পড়িহাসে স্থান হলনা মেধা তালিকাতে মাত্র এক নম্বরের জন্য! কিন্তু এতক্ষনে নিশ্চই আপনার মনে কিছুটা স্থান করে নিতে পেরেছে তাপস। “কার্তিকপুর দেগঙ্গা আদর্শ বিদ্যাপীঠ” এর ছাত্র তাপসের এবারের মাধ্যমিকের প্রাপ্ত নম্বর কাঠামো দেখে নিন তাহলে- অঙ্ক, পদার্থ বিজ্ঞান, জীবন বিজ্ঞান ও ভূগোলে ১০০ তে ১০০ সহ, বাংলাতে ৯৩, ইংরেজিতে ৯২, ইতিহাসে ৯৪। নাহ্‌ তুলনা করতে চাইনা, স্থান হয়নি মেধা তালিকায়, কিন্তু আমাদের কাছে তাপস আজ সেরার সেরা। এগিয়ে যাও এই ভাবে। সকলেই তোমার পাশে রয়েছে।

[আরও পড়ুন- ২০১৯ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার রুটিন জেনে নিন]

♠ ইংরেজি পরীক্ষার আগের রাতে মায়ের শেষকৃত্য সেরে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে প্রায় ৯৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাস করেছে স্বপ্নজিৎ

বাংলা পরীক্ষার দিনে প্রাণ প্রিয় মাকে হারিয়েও তাক লাগানো ফলাফল স্কুলের স্বপ্নজিৎ এর
বাংলা পরীক্ষার দিনে প্রাণ প্রিয় মাকে হারিয়েও তাক লাগানো ফলাফল স্বপ্নজিৎ এর

স্বপ্নজিৎ দাস। বাড়ি বসিরহাট। বসিরহাট টাউন হাইস্কুলের ছাত্র স্বপ্নজিৎ। বাংলা পরীক্ষা দিয়ে ইংরেজি পরীক্ষার আগের রাতে তার মা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। “ইংরেজিটাও যেন ভাল হয়। চিকিৎসক হতে হবে কিন্তু”, এটাই ছিল স্বপ্নজিতের মায়ের শেষ ইচ্ছা। মায়ের ইচ্ছা পুরনের প্রাথমিক ধাপে সফল হয়েছে স্বপ্নজিৎ। এবারের মাধ্যমিকে ৬৬৩ নম্বর পেয়েছে সে। অঙ্কতে ১০০, পদার্থবিজ্ঞানে ১০০, বাংলাতে ৯১, ইংরেজিতে ৮২, জীবনবিজ্ঞানে ৯৬, ইতিহাসে ৯৬ এবং ভূগোলে ৯৮ পেয়েছে। স্বপ্নজিতের কথায় ‘‘মা চাইতেন ডাক্তার হই। সেই চেষ্টাই করব।’’ শুভেচ্ছা রইল স্বপ্নজিৎ।

♠ বন্যায় ভেসে যায় বাড়ি, ভাজা বিক্রেতা, ছেলে মাধ্যমিকে ৬৭৩

বালুরঘাট ললিতমোহন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এই ছাত্র।
৬৭৩ পেয়ে জেলার মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বালুরঘাট ললিতমোহন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এই ছাত্র। ছবি সূত্র- সংবাদ প্রতিদিন

বাবা পরাণ সরকার ভাজা বিক্রেতা, ঠেলায় করে বাদাম, বুট ভাজা ও মুড়ি মশলা বিক্রি করে । মা টুলটুল সরকার পরিচারিকার কাজ করেন। থাকেন দক্ষিণ দিনাজপুরে। বালুরঘাট শহরের আত্রেয়ী কলোনি পাড়ার এক কামড়ার ঘর। প্রতি বছরের বর্ষায় আত্রেয়ীর জল ভাসিয়ে নিয়ে যায় তাদের গোটা বস্তি। তাদের ছেলে রবি সরকার। এবারের মাধ্যমিকে তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৭৩। ৬৭৩ পেয়ে জেলার মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। বালুরঘাট ললিতমোহন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এই ছাত্র। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কলেজে পড়া দিদির কাছেই মাধ্যমিকের প্রস্তুতি নিয়েছিল রবি। তার ফল হিসাবে বাংলায়, ৯২, ইংরেজিতে ৯২, অঙ্কে ১০০, ভৌতবিজ্ঞানে ৯৯,  জীবনবিজ্ঞানে ৯৮, ইতিহাসে ৯৭, ভুগোলে ৯৬ পেয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের গর্ব এখন রবি।

♠ বাবা বিড়ি বাঁধেন, মেয়ে সুজাতা ব্লকের সেরা-

বিড়ি বাঁধেন বাবা, ব্লক স্তরে মাধ্যমিকে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে নজির কিশোরীর
বিড়ি বাঁধেন বাবা, ব্লক স্তরে মাধ্যমিকে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে নজির কিশোরীর ছবি সূত্র- সংবাদ প্রতিদিন

চাষাবাদ সামলে সারা বছর বিড়ি বাঁধার কাজ করতে হয় ভাতারের বড়বেলুন গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল শীলকে। অভাবের মধ্যে সারা বছর পড়াশোনা করে এবারের মাধ্যমিকে ৬৬৬ নম্বর পেয়ে ভাতার ব্লকের সেরা স্থান লাভ করেছে। সুজাতার সুজয় নামে আরও এক যমজ ভাই রয়েছে। সেও এবছর মাধ্যমিক দিয়েছে কিন্তু নম্বররের দিক থেকে সুজয়কে অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছে সুজাতা। মূলত ছেলেমেয়েকে বাড়িতেই পড়াতেন শ্যামলবাবু। তিনি বলেন, “আমি খুব কষ্ট করে সংসার চালাই। ছেলেমেয়েদের ঠিকমতো টিউশন দিতে পারিনি। তবে ওরাও আমার কাছে জোর করেনি।” সুজাতা বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে শিক্ষকতা করতে চায়। এবং ভবিষ্যতে তার মত দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়াতে চায়। অভিনন্দন রইল সুজাতা, এগিয়ে যাও।

♠ এক দরিদ্র গামছাওয়ালার ছেলের কৃতিত্ব

‘অমিয় কর্মকার’
‘অমিয় কর্মকার’

নিমাই কর্মকার পেশায় একজন গামছা বিক্রেতা। সারাদিনে খুব বেশি আয় হয় ১০০ টাকা। এর মধ্যেই তাকে পরিবার সামলাতে হয়, মেধাবি ছেলেকে পড়াশোনা করাতে হয়। বাড়ি পশ্চিম বর্ধমানের বার্নপুরের এক প্রত্যন্ত জায়গা তেঁতুলবেড়িয়াতে। তাঁ ছেলে ‘অমিয় কর্মকার’ এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে এবং বলা বাহুল্য বরাবরের কৃতি ও মেধাবী ছাত্র অমিয় ৬৫৬ নম্বর পেয়ে এবছ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েছে। তার স্বপ্ন বিজ্ঞান নিয়ে পড়া এবং ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়া।

♠ পরীক্ষা চলাকালীন ঘরবাড়ী বই-খাতা, অ্যাডমিট কার্ড পুড়ে গিয়েছে, কিন্তু পরীক্ষাতে তারা সফল

নিউ টাউনের সুলংগুড়ির বাসিন্দা মিতালি হালদার, নারকেলডাঙার ইনসা কওসর ও মানিকতলার মেঘা দাস প্রতিকূলতার মধ্যেও পরীক্ষায় তারা কৃতকার্য হয়েছে। এদের তিন জনের মধ্যে একজন, মিতালির কথাই বলা যাক, মাধ্যমিকের বাংলা পরীক্ষা দিয়ে ফিরে দেখে তার ঘর পুড়ে গিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে সে তন্ন তন্ন করে খুঁজেছিল বই-খাতা, নোট্‌স। প্রতিবেশীরা এবং প্রশাসন এর সহযোগীতায় মিতালি বই-খাতা্র পাশাপাশি, আশ্রয়েরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফলস্বরূপ দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করতে পেরেছে মিতালি।

[আরও পড়ুন- ২০১৮ মাধ্যমিকের মেধা তালিকা বিস্তারিত জেনে নিন]

ঠিক একি ভাবে মাধ্যমিকের মাত্র দশ দিন আগে বাড়ীতে আগুন লেগে নারকেলডাঙার বাসিন্দা ইনসা কওসরের বই-খাতার সঙ্গে পুড়ে যায় অ্যাডমিট কার্ডও। পরে অবশ্য  প্রশাসনের সহায়তায় ডুপ্লিকেট অ্যাডমিট কার্ড পায়। সেখান থেকেই মাধ্যমিক দিয়ে ৪৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাশ করেছে সে।

পুড়ে যাওয়া বাড়ির সামনে মায়ের সঙ্গে মিতালি হালদার
পুড়ে যাওয়া বাড়ির সামনে মায়ের সঙ্গে মিতালি হালদার (সূত্র- আনন্দবাজার পত্রিকা)

মানিকতলার মেঘা দাস। বিল মেটাতে না পারায় বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়ে গিয়েছিল সিইএসসি। মানিকতলা পুলিশ ওই ছাত্রীর বাড়ির বিল মেটাতে সাহায্য করে। অবশেষে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাশ করেছে মেঘা।

তাদের প্রতিবেশীরা বলছেন, ‘‘ওরা কে কত নম্বর পেয়েছে, সেটা বড় কথা নয়। ওরা যে পরীক্ষায় বসেছে এবং পাশ করেছে, সেটাই বড় কথা।’’

[আরও পড়ুন- উচ্চমাধ্যমিক ২০১৮ ফলাফল জানবেন কিভাবে?]

♠ ক্যানসারকে তুড়ি মেরে মাধ্যমিকে স্বাগতার ৪৬১

স্বাগতা অধিকারী
স্বাগতা অধিকারী (ছবি সূত্র- ফেসবুক)

নাম স্বাগতা অধিকারী। উলুবেড়িয়ার বাণীবন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তিন বছর ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত। ” ফুসফুসের ক্যানসারে ” ভুগছে। ইতিমধ্যে চারটি কেমোথেরাপি হয়েছে। একটানা বেশিক্ষণ বসতে-দাঁড়াতে পারে না, তিন ঘন্টা বসে লেখা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব ছিল কিন্তু সে সেটাকে সম্ভবে পরিনত করেছে। এবছরের মাধ্যমিকে স্বাগতা ৪৬১ নম্বর পেয়েছে। অন্যান্যদের তুলনায় নম্বরটা নিতান্তই কম মনে হলেও, অনুপ্রেরণার জন্য যথেষ্ট নম্বর পেয়েছে স্বাগতা। নিজের সাফল্যে স্কুলের অবদানের কথা বলতে গিয়ে সে বলে- ‘‘নবম শ্রেণিতে প্রথম দিকে বন্ধুরা দূরে সরে থাকত। দিদিমণিরা সেটা দূর করে দিয়েছিলেন। তাঁরাই আমাকে ধরে ক্লাসে বসিয়ে দিতেন।’’। স্বাগতার পরবর্তী লক্ষ উচ্চশিক্ষার জন্য এই ভাবে লড়াই করে যাওয়া। অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা রইল স্বাগতা, তুমি তোমার লক্ষে এই গতিতে এগিয়ে চল।

♠ লটারির টিকিট বিক্রেতার ছেলে মেধাতে দশম স্থা্নে!

শুভম রায়
শুভম রায়

নাম শুভম রায়। বাড়ি বীরভুমের কৃষ্ণপুর গ্রামে (যদিও বা বর্তমানে সিউড়িতে থাকে তার পরিবার)। বাবা পেশায় একজন লটারির টিকিট বিক্রেতা। দৈনিক আয় খুব বেশি হলে ৩০০টাকা হবে। শুভমের ঠাকুরদা সরকারী কর্মচারী ছিলেন, তাঁর কাছেই পড়াশোনাটা করে শুভম। ঠাকুরদার চেষ্টা ও পেনশনের টাকার সাহায্যেই চলে শুভমের পড়াশোনা। এবছরের মাধ্যমিকে ৬৮০ পেয়ে মেধাতালিকাতে বাকি ১৪জনের সাথে দশম স্থানে রয়েছে এবং বীরভুম জেলাতে তৃতীয় স্থানে রয়েছে শুভম। শুভম তার ঠাকুরদা, বাবা মার সম্মান অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভবিষ্যমে শুভম ডাক্তার হতে চায় এবং গ্রামের গরীব দের চিকিৎসা করতে চায়। শুভ কামনা রইল শুভম।

♠ দৃষ্টিশক্তির অসুবিধা রয়েছে। কিন্তু অক্ষম নই। ভালো মানুষ হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। যাকে প্রত্যেকে সম্মান করবে।

নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ স্কুলে সন্দীপ
নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ স্কুলে সন্দীপ

আসানসোলের চিত্তরঞ্জনের সন্দীপ সেন। ছ’মাস বয়সে বাঁ-চোখ কার্যত নষ্ট হয়ে যায়। ডান চোখেও কিছুটা প্রভাব পড়েছিল। কিন্তু এর পরেও পড়াশোনা চালিয়েছে। “নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ স্কুল” ৯০ শতাংশের উপরে নম্বর পেয়ে স্কুলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার ইতিহাস রচনা করেছে। সে অঙ্কে ১০০, পদার্থবিদ্যায় ৯০, জীবন বিজ্ঞানে ৯৭, ইংরেজিতে ৯৩, ভূগোলে ৯৫, ইতিহাসে ৮৩ এবং বাংলায় ৮২ নম্বর পেয়েছে। এরপর সন্দীপের ইচ্ছা রয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং বাংলা নিয়ে পড়াশোনা করার। সন্দীপের আরও ইচ্ছে, সরকারি চাকরি করে বাবা-মাকে আরও ভালো রাখতে চাই। এমন একটা চাকরি করতে চাই, যেখানে মানুষের সেবা করতে পারব। ছবি সূত্র- বর্তমান

♠ ভুল পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর পুলিশের সহায়তায় আসল পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে মাধ্যমিকে সফল ভাবে উত্তীর্ণ সাইরিন!

সাইরিন নাজকে শুভেচ্ছা
সাইরিন নাজকে শুভেচ্ছা

১২ মার্চ মাধ্যমিকের প্রথম দিন ঠাকুরপুকুরের বাসিন্দা সাইরিন বেলেঘাটার পরীক্ষা কেন্দ্রের বদলে পৌঁছে গিয়েছিল ওয়াটগঞ্জ থানার মোহন চাঁদ রোডে, বঙ্কিম ঘোষ মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলে। গিয়ে সে জানতে পারে, ভুল কেন্দ্রে চলে এসেছে। স্কুলের বাইরে সাইরিনকে কাঁদতে দেখে এগিয়ে আসেন ওয়াটগঞ্জ থানার ওসি অমিত বিশ্বাস। পুলিশকর্মীরা খিদিরপুর থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ গ্রিন করিডর করে নির্দিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছে দেন মেয়েটিকে। সাইরিন মাধ্যমিকে ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায় সাইরিন।

ধন্যবাদ সকলকে। আপনাদের নজরে, সন্ধানের মধ্যে এমন মেধাবিদের খোঁজ থেকে থাকলে এখনি আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। এবং সম্পূর্ণ তথ্য আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন। আমাদের ইমেল- helpline.studentscare@gmail.com । এছাড়াও আমাদের ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করুন এখানে ক্লিক করুন

এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 49
    Shares
error: স্টুডেন্টস কেয়ার কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত !!