একবিংশ শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হল ২৭-২৮ জুলাই ২০১৮

এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 389
    Shares

পরিচ্ছেদসমূহ

শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ

একবিংশ শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হল ২৭-২৮ জুলাই ২০১৮ সালের চন্দ্রগ্রহণ। শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ এর সময়সীমা প্রায় ১ ঘন্টা ৪৩ মিনিট। এই শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ এটাই। শুধু তাই নয় পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের আগে ও পরে দৃশ্যমান আংশিক চন্দ্রগ্রহণও। এ এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। এই বিষয়ে জানার আগে আমরা আগে প্রাথমিক কিছু ধারনা জেনে নেই।

♦ গ্রহণ কি?

জ্যোতির্বিজ্ঞানে ‘গ্রহণ’ ইংরেজিতে ‘Eclipse’ বা এক্লিপ্‌স্‌ বলতে একটি মহাকাশীয় বস্তুর কারণে অন্য একটি মহাকাশীয় বস্তুর আংশিক বা পূর্ণরূপে আড়াল হওয়াকে বোঝায়। যখন তিনটি বস্তু একই সরলরেখায় অবস্থান করে, তখন তাদের মধ্যে একটি বস্তু থেকে বাকী দুইটি বস্তুর মধ্যে সংঘটিত গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা যায়। যে বস্তুটি আড়াল করে, তাকে বলে গ্রহণকারী বস্তু। আর যে বস্তুটি আড়ালে চলে যায়, তাকে বলে গ্রহণকৃত বস্তু।

যেমন- সূর্য পৃথিবী ও চন্দ্র নিয়ে যে গ্রহণ হয় তা পর্যবেক্ষন করা হয় পৃথিবী থেকে। তবে শুধুমাত্র চন্দ্র,সূর্য ও পৃথিবীকে নিয়েই গ্রহণ ঘটেনা। পৃথিবীর সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে পরিচিত দুটি গ্রহণ হল- সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ।

বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানা নিয়েছে, চন্দ্রগ্রহণের চেয়ে সূর্যগ্রহণ বেশিবার হয়। প্রতি সাতটি গ্রহণের মধ্যে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের অনুপাত ৫:২ বা ৪:৩।

[আবিষ্কার হল নতুন ভূতাত্বিক যুগের || আমরা এখন মেঘালয়ান যুগে রয়েছি, পড়ুন বিস্তারিত এখানে ক্লিক করে]

♦ চন্দ্রগ্রহণ কি?

পৃথিবী উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, আবার চাঁদও উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। কক্ষপথ পরিভ্রমণের এক পর্যায়ে পূর্ণিমার রাতে চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে পৃথিবী এসে যায়।

চন্দ্রগ্রহণ কি
চন্দ্রগ্রহণ

সেই সময় যদি সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ এই তিনজন এক ‘সমতলে’ এবং এক ‘সরলরেখায়’ চলে আসে তখন সূর্যের আলো পৃথিবীতে বাঁধা পড়ে মহাকাশের বিশাল এলাকা জুড়ে পৃথিবীর ছাড়া পরে। পূর্ণিমার চাঁদ যখন সেই ছায়াতে ঢুকে তখনই ঘটে চন্দ্রগ্রহণ।

♦ চাঁদের কক্ষপথ ও পরিক্রমণ পথ:

পৃথিবী উপবৃত্তাকার পথে যেমন সূর্যকে প্রদক্ষিণরত, মহাকাশে এই কক্ষপথটি ক্রান্তিবৃত্ত (Ecliptic) নামে পরিচিত। তেমনি ভাবে চাঁদও উপবৃত্তাকার পথে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণরত। চাঁদের কক্ষপথ ক্রানি-বৃত্তকে দুটি বিন্দুতে ছেদ করে। এই ছেদ বিন্দুকে পাত (Node) বলা হয়। যে ছেদ বিন্দুর মধ্যে দিয়ে চাঁদ দক্ষিণ থেকে উত্তরে যায় তাকে ‘আরোহী পাত’ (Ascending Node) বলে এবং যে ছেদ বিন্দুর মধ্যে দিয়ে চাঁদ পুনরায় উত্তর থেকে দক্ষিণে যায় তাকে ‘অবরোহী পাত’ (Descending Node) বলে। প্রতি মাসে চাঁদ দুইবার এই ক্রান্তি-বৃত্ত অতিক্রম করে।

আরোহী ও অবরোহী পাত
‘আরোহী পাত’ (Ascending Node) ও ‘অবরোহী পাত’ (Descending Node)

কক্ষপথ পরিভ্রমনের এক পর্যায়ে চাঁদ পৃথিবীকে মাঝখানে রেখে সূর্যের সাথে এক সমতলে এবং এক সরলরেখায় চলে এলে সূর্যের আলো পৃথিবীতে বাঁধা পড়ে চাঁদে পৌঁছতে পারে না। তখনই ঘটে থাকে চন্দ্রগ্রহণ

♦ প্রতি মাসে পূর্ণিমা হয় কিন্তু চন্দ্রগ্রহণ হয় না কেন?

প্রতি মাসে একবার করে পূর্ণিমা হয় এবং চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে পৃথিবী এসে যায়। পৃথিবীর ছায়াও ছড়িয়ে পরে। কিন্তু তবুও প্রতি পূর্ণিমাতে চন্দ্রগ্রহণ হয় না। এর কারণ হচ্ছে সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ এই তিনজন সব সময় একই সমতলে অবস্থান করে না।

চন্দ্রগ্রহণ ঘটতে হলে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীকে অবশ্যই একই সরলরেখায় ও একই সমতলে থাকতে হবে। চাঁদের কক্ষতল পৃথিবীর কক্ষতলের সাথে গড়ে ৫ ডিগ্রী ৯ মিনিট কোনে অবস্থান করে (ওপরের চিত্রের দ্রব্যষ্ট)। ফলে প্রতি পূর্ণিমাতেই চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সমতলে থাকলেও একই সরলরেখায় আসতে পারে না।

♦ চন্দ্রগ্রহণের প্রকারঃ

চন্দ্রগ্রহণ সাধারণত দুই প্রকার হয়ে থাকে। ১. পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ এবং ২. আংশিক চন্দ্রগ্রহণ।

১. পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ :

চাঁদ যখন পৃথিবীর প্রচ্ছায়ায় পুরোপুরি অবস্থান করে তখন পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ ঘটে এবং

২. আংশিক চন্দ্রগ্রহণ :

আংশিক চন্দ্রগ্রহণ
আংশিক চন্দ্রগ্রহণ

চাঁদ যখন পৃথিবীর প্রচ্ছায়ায় সম্পূর্ণ অবস্থান না করে কিছু অংশ উপচ্ছায়ায় থাকে তখন আংশিক চন্দ্রগ্রহণ ঘটে।

♦ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণে তামাটে রঙের চাঁদ হয় কেন?

গ্রহণ চলাকালীন সূর্যগ্রহণের মতো চাঁদ পুরোপুরি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায় না। বরং চাঁদকে একটি তামাটে বা লাল রঙের চাকতির মতো মনে হয়। কারণ পৃথিবীর তুলনায় সূর্য প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড়, তাই সূর্যের আলোকরশ্মি পৃথিবীর অতিক্রম করেও কিছুটা ছটা চাঁদের চারিপাশে লক্ষ করা যায়। পৃথিবীর আকার চাঁদের তুলনায় অনেক বড় হওয়ায় পৃথিবীর ছায়াও তুলনামূলক বড় হয়। ফলে পৃথিবীর ছায়া চাঁদ কে ঢেকে ফেলে। এবং  সূর্যের আলোকরশ্মির মধ্যে নীল রঙয়ের রশ্মি সহ কম তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের রশ্মির পুরোটাই পৃথিবীর বায়ুমন্ডল শোষণ করে নেয়। অবশিষ্ট বেশি তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের লাল বা কমলা রঙের রশ্মি পৃথিবীর বায়ুমন্ডল দ্বারা শোষণের পরেও কিছুটা অংশ প্রতিসরিত ও বিচ্ছুরিত হয়ে চাঁদের উপরে পড়ে। একারণে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ তামাটে বর্ণের হয়।

পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণে তামাটে রঙের চাঁদ
পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণে তামাটে রঙের চাঁদ

♦ পৃথিবীর নিজস্ব বায়ুমন্ডল না থাকলে পূর্নচন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদকে কেমন দেখাতো?

পৃথিবীর নিজস্ব বায়ুমন্ডল না থাকলে চাঁদকে কালোই দেখাতো।

[স্টুডেন্টস কেয়ার ফেসবুক পেজে যুক্ত হন এবং সকল আপডেপ সবার আগে পান!]

♦ পৃথিবীর ছায়ার কয় প্রকার?

চেহারায় বড় কোনও বস্তুর সামনে কোনও বস্তু এসে পড়লে ছায়ার দু’টি এলাকা তৈরি হয়। সূর্যের আলো পৃথিবীর উপর পড়লে তেমনই দুটি ছায়া অঞ্চলের সৃষ্টি হয়– ১. প্রচ্ছায়া (আমব্রা) এবং ২. উপচ্ছায়া (পেনাম্ব্রা)

১. প্রচ্ছায়া-

ছায়ার কেন্দ্রী অংশে থাকে প্রচ্ছায়া অঞ্চল। এই অঞ্চলে সূর্যের আলো একদমই পৌঁছতে পারে না। চাঁদ যখন এই অঞ্চলে থাকে তখন চন্দ্রগ্রহণ হয়। পূর্ণ গ্রহণ শুরু হয় যখন চাঁদ প্রচ্ছায়ায় প্রবেশ করতে শুরু করে। চাঁদ যতক্ষণ প্রচ্ছায়ায় থাকে ততক্ষণ ঘটে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। নির্দিষ্ট সময় পরে পৃথিবীর প্রচ্ছায়া থেকে চাঁদ ধীরে ধীরে বের হতে শুরু করলে আবার শুরু হয় চাঁদের আংশিক গ্রহণ। [নিচের ছবিতে বর্ণনা করা হয়েছে]

প্রচ্ছায়া (আমব্রা) এবং উপচ্ছায়া (পেনাম্ব্রা)
প্রচ্ছায়া (আমব্রা) এবং উপচ্ছায়া (পেনাম্ব্রা)

২. উপচ্ছায়া-

অন্যদিকে প্রচ্ছায়া অঞ্চলের দুই দিকে অনেকটা এলাকা জুড়ে থাকে উপচ্ছায়া অঞ্চল। উপচ্ছায়া অঞ্চলে সূর্যের আলো কিছু পরিমাণ পৌঁছায়। ফলে চাঁদ যখন শুধুমাত্র উপচ্ছায়ায় অবস্থান করে তখন কোন গ্রহণ ঘটে না, চাঁদকে শুধু কিছুটা ম্লান দেখায়। পূর্ণ গ্রহণ শুরু হওয়ার আগের মুহুর্তে আংশিক গ্রহণ হতে থাকে এবং পূর্ণচন্দ্রগ্রহন হওয়ার পরেও আংশিক গ্রহণ হতে থাকে।

অর্থাৎ চাঁদের আংশিক গ্রহণ দিয়ে গ্রহণ শুরু এবং পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের দশা পেরিয়ে আবার তা আংশিক গ্রহণে ফিরে আসে (নিম্নের চিত্রটি খেয়াল করুণ)। প্রচ্ছায়ার আকৃতি কোনের মত, যেটি এক সময় একটি বিন্দুতে শেষ হয়। এটি প্রচ্ছায়া-কোনের শীর্ষবিন্দু (Apex)।

চাঁদের আংশিক দশা থেকে পূর্ণ দশায় চলন
চাঁদের আংশিক দশা থেকে পূর্ণ দশায় চলন

♦ শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ এর সময়-

একবিংশ শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হতে চলেছে ২৭ ও ২৮ জুলাই ২০১৮ তে। যার আগে ও পরে হবে আংশিক চন্দ্রগ্রহণও। যা এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। গত ১০০ বছরে এই প্রথম টানা প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট ধরে চাঁদের মুখ পুরোপুরি ঢেকে যাবে এবং পূর্ণ আর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ মিলে মোট ৩ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট ধরে চলবে এবারের এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনাটি। অর্থাৎ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের আগে ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট ধরে চলবে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। আবার পূর্ণগ্রাস হয়ে যাওয়ার পর শুরু হবে আংশিক গ্রহণ, যা চলবে আরও ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট ধরে। তাহলে মোট সময় হল (১ ঘণ্টা ৬ মিনিট + ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট +  ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট) = ৩ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগামী ২৭ জুলাই ভারতীয় সময় রাত ১১.৫৪ মিনিটে শুরু হবে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। চলবে ২৮ জুলাই রাত ১টা পর্যন্ত। তার পর আবার রাত ১টায় শুরু হবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। যা শেষ হবে রাত ২.৪৩ মিনিটে। এরপর রাত ২.৪৩ মিনিটে ফের শুরু হবে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। যা শেষ হবে রাত ৩.৪৯ মিনিটে।

♦ পৃথিবীর কোন্‌ কোন্‌ স্থান থেকে দেখা যাবে শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ?

ভারতের প্রায় সব অঞ্চল থেকেই এই গ্রহণ দেখা যাবে। এছাড়াও দেখা যাবে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ থেকে, যেমন- অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া, উত্তরাঞ্ছল বাদে সমগ্র রাশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকার পূর্বাঞ্চল এবং অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চল থেকেও গ্রহণ দেখা যাবে।

একবিংশ শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ এর কারণ কী?

পৃথিবী যেমন সূর্যকে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে ঠিক তেমনি ভাবে, পৃথিবীকে কেন্দ্র করে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পাক খায় চাঁদ। পৃথিবীকে এক বার পাক খেতে তার গড়ে সময় লাগে সাড়ে ২৭ দিন। এই সাড়ে ২৭ দিনের মধ্যে চাঁদ এক বার পৃথিবীর কাছে চলে আসে আর একবার অনেক দূরে চলে যায়। চাঁদ ও পৃথিবীর দূরত্বটা যখন সব থেকে কম হয়, সেটাকে বলে ‘অনুভূ’ বা এপিজে অবস্থান। আর পৃথিবী ও চাঁদ যখন একে অন্যের থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে থাকে, সেই অবস্থানকে বলে ‘অপভূ’ বা অ্যাপোজে অবস্থান।

অ্যাপোজি ও পেজিজি
অ্যাপোজি ও পেজিজি

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২৭ জুলাই সেই ‘অ্যাপোজে’-তেই থাকবে চাঁদ ও পৃথিবী। এই দিনে একই সরলরেখায় থাকবে চাঁদ, সূর্য আর পৃথিবী (সিজিগি অবস্থা)। আপনারা সকলেই জানেন চাঁদ আর পৃথিবী কারওই নিজের আলো নেই। এরা সূর্যের আলোতেই আলোকিত হয় এবং আমাদেরও আলোকিত করে! সূর্য আর চাঁদের মাঝে তাই পৃথিবী এসে পড়লে মুখ ঢেকে যায় চাঁদের। হয় চন্দ্রগ্রহণ।

সিজিগি অবস্থা
সিজিগি অবস্থা

যেহেতু পৃথিবীর আকার চাঁদের তুলনায় অনেক বড় সেহেতু পৃথিবীর ছায়াও তুলনামূলক বড় হয়। একারণে পৃথিবীর প্রচ্ছায়া (Umbra) অঞ্চলের (আগে আলোচনা করা হয়েছে) ব্যাসও অনেক বড় হয়। এছাড়া, যেহেতু এই সময় চাঁদ অ্যাপোজি অবস্থানে রয়েছে তাই পৃথিবীকে অতিক্রম করতে করতে প্রচ্ছায়া কোণের মাঝামাঝি অংশ দিয়ে চাঁদ অতিক্রম করলে তখন চাঁদের গতি মন্থর হয়ে যাবে। পৃথিবীকে অতিক্রম করতে বেশি সময় লাগবে। তাই পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ অনেক সময় ধরে দেখা সম্ভব। তাই দীর্ঘতম হচ্ছে এই চন্দ্রগ্রহণ।

একবিংশ শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণের কারণ কী
পৃথিবীর প্রচ্ছায়ার ব্যাস বেশি হওয়ার ফলে চন্দ্রগ্রহণের সময় বৃদ্ধি পায়

আপনাদের বলে রাখি, চাঁদ ও পৃথিবীর এই অবস্থায়, চন্দ্রগ্রহণের সমস- দশা প্রায় চার ঘন্টা ধরে চলে। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ সর্বোচ্চ ১ ঘন্টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

♦ এর আগে কবে এত বড়ো চন্দ্রগ্রহণ দেখা গিয়েছিলো?

পূর্বে ২০০০ সালের ১৬ই জুলাই ১ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট ব্যাপী চন্দ্রগ্রহণ হয়েছিল এবং ১৫ই জুন ২০১৫, ১ ঘন্টা ৪০ মিনিট ব্যাপী চন্দ্রগ্রহণ হয়েছিল। তবে এতটা বেশি সময় ধরে গ্রহণ আগে কখনও হয়নি।

♦ আবার কবে চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে?

ভারতে ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই একটি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি একটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হবে। তবে সেটি ভারত থেকে দেখা যাবে না।

♦ চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে দেখা সম্ভব?

সূর্যগ্রহণ খালি চোখে দেখা অত্যন্ত ক্ষতিকর হলেও চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখেই দেখা সম্ভব। উজ্জ্বলতা বেশি না থাকায় তা চোখের জন্য মোটেই ক্ষতিকর নয়, তবে পূর্ণিমার সময় টেলিস্কোপে পর্যবেক্ষণ করলে বা ক্যামেরা ব্যবহার করলে ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে। তবে খেয়াল রাখবেন এই সময়ে প্রচুর বিকিরন পৃথিবীতে চলে আসে। যাহা মানব দেহের জন্যে খারাপ। এই বিষয়টি বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত।

♦ আরও এক মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী থাকবো আমরা-

চন্দ্রগ্রহণ ছাড়াও এ মাসেই সৌরজগতের আরও একটি ঘটনা চাক্ষুস করবেন ভারতবাসী। ২৭ জুলাই মঙ্গলের অবস্থান হবে সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে। অর্থাৎ পৃথিবীর খুব কাছেই আসবে লাল গ্রহ মঙ্গল। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে বিকেল থেকে ভোর পর্যন্ত খালি চোখেই ভারত থেকে দেখা যাবে মঙ্গল গ্রহ।২৭-২৮ জুলাই চন্দ্রগ্রহণের সময় খালি চোখেই পাশে অবস্থিত বড় মঙ্গল গ্রহকে দেখা যাবে।  প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ৩১শে জুলাই পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকবে মঙ্গল গ্রহ। প্রতি দুই বছর বাদে মঙ্গল গ্রহ পৃথিবীর অনেক কাছে চলে আসে এবং প্রায় দুই মাস আকাশে বড় আকারের উজ্জ্বল মঙ্গল গ্রহ দেখা যায়।

পৃথিবী ও মঙ্গল একসাথে!
পৃথিবী ও মঙ্গল একসাথে!

♦ চন্দ্রগ্রহণের সময় ভুলেও করবেন না এই ৫টি কাজ:

► হিন্দু শাস্ত্রমতে, গ্রহণের দিন সন্ধের পরে শরীরে তেল মালিশ করলে ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

►স্বামী-স্ত্রীকে সংযম রাখতে হবে। শাস্ত্র মতে, গ্রহণের সময়ে মিলনের যে সন্তান গর্ভে আসবে, তার স্বভাব, চরিত্র ভাল হয় না।

►গ্রহণের সময়ে গর্ভবতী মহিলাদের বাইরে বেরনো উচিত নয়। কারণ, গ্রহণের সময় পরিবেশে ক্ষতিকারক তরঙ্গ সক্রিয় থাকে। এর ফলে গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি হতে পারে।

►গ্রহণের আগে রান্না করা খাবার গ্রহণের পরে খাওয়া উচিত নয়। খাবার রান্না করা থাকলে গ্রহণের সময়ে তাতে তুলসি পাতা ছড়িয়ে দিন। তাহলে গ্রহণের ক্ষতিকারক প্রভাব খাবারে পড়বে না।

►সুস্থ মানুষদের সন্ধের পরে ঘুমনো উচিত নয়। এর ফলে শরীর অসুস্থ হতে পারে। গর্ভবতী, বৃদ্ধ এবং অসুস্থরা অবশ্য এই সময়ে বিশ্রাম নিতে পারেন বা শুয়ে থাকতে পারেন। (সূত্র-এবেলা)

© কপিরাইট সংরক্ষণে স্টুডেন্টস কেয়ার™। অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ।

্ট্যাগ- শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ , চন্দ্রগ্রহণ কিভাবে হয়, চন্দ্রগ্রহণের কারণ কি, চাঁদের কক্ষপথের বিস্তার, সিজিগি কি, চন্দ্রগ্রহণের সুফল ও কুফল

এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 389
    Shares
error: স্টুডেন্টস কেয়ার কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত !!