ক্লাউড সিডিং বা কৃত্রিম বৃষ্টিপাত সৃষ্টি || Artificial Rain Making

এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 382
    Shares

পরিচ্ছেদসমূহ

ক্লাউড সিডিং বা কৃত্রিম বৃষ্টিপাত

বর্তমান শতাব্দীর জলসমস্যা দিন দিন তীব্রতর হয়ে উঠেছে। যার প্রধান কারণ দীর্ঘদিনব্যপী খরাপ্রবণ অবস্থা এবং মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত জলের ব্যবহার। হিসাব করে দেখা গেছে যে বিশ্বের প্রায় ৪০% জনসংখ্যা প্রচন্ড জলসংকটে ভুগছে এবং জলসেচের জন্য পর্যাপ্ত জলের অভাব দেখা যাচ্ছে। অনুমান করা হয় যে, আগামী ২৫ বছরের মধ্যে সমগ্র বিশ্বের সবকটি দেশই তীব্র জলসংকটে ভুগবে। এমন অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব অনুযায়ী এই তীব্র জলসমস্যার সমাধান সম্ভব ক্লাউড সিডিং বা কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানো। ক্লাউড সিডিং বা কৃত্রিম বৃষ্টিপাত সম্পর্কে জানার আগে আমরা একটু জেনে নেই বৃষ্টিপাত কিভাবে হয়।

♦ বৃষ্টি কি? কিভাবে ঘটে বৃষ্টিপাত?

বৃষ্টি একধরনের তরল, যা আকাশ থেকে মাধ্যাকর্ষণের টানে ভূপৃষ্ঠের দিকে পড়ে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘের সৃষ্টি করে। এই ফোঁটাগুলি যথেষ্ট পরিমাণে ভারি হলে তা পৃথিবীর বুকে ঝরে পড়ে – একেই বলে বৃষ্টি।

বৃষ্টিপাতের জন্য প্রথমেই দরকার পড়ে জলীয় বাষ্প, সেই জলীয় বাষ্প হালকা হওয়ার কারণে উপরে উঠে গিয়ে বাতাসের ধূলিকণা, বালুর কণা ইত্যাদির সহায়তায় জমাটবদ্ধ হয়ে তৈরি করে মেঘ। এভাবে মেঘের আকৃতি বড় হতে হতে যখন ভারি হয়ে যায়, তখন হয় বৃষ্টি।

♦ ক্লাউড সিডিং বা কৃত্রিম বৃষ্টিপাত কি?

আকাশে ভেসে থাকা বৃষ্টির অনুপোযোগী মেঘগুলোকে জোরপূর্বক বৃষ্টি হিসেবে মাটিতে নামিয়ে আনাই হলো কৃত্রিম বৃষ্টিপাত। কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের অর্থ কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট মেঘ থেকে বৃষ্টিপাত নয়। বস্তুত, কৃত্রিম বৃষ্টিপাত হল একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি বিশেষ ধরনের মেঘকে কৃত্রিমভাবে সম্পৃক্ত করে বৃষ্টিপাত ঘটানো হয়। তাই একে মেঘের ‘কৃত্রিম রূপান্তর’ –ও বলা যেতে পারে।

♦ কৃত্রিম বৃষ্টিপাত কেন ঘটানো হয়?

আমরা সকলেই জানি, বৃষ্টি সংঘটনের জন্য একদম মূল উপাদান হল ঘনীভবন। বায়ুমন্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার স্তরের এলাকাকে মেঘের দেশ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তুলার মত সাদা হালকা মেঘগুলো এই অঞ্চলেই উড়ে বেড়ায়। এই মেঘগুলো যতই ঠান্ডা বা হিমাঙ্কের নীচে হোক না কেনো, বৃষ্টিপাতের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ভারী না হওয়া পর্যন্ত বা ঘনীভূত না হওয়া পর্যন্ত তা বৃষ্টি হিসেবে ঝড়ে পরে না। বৃষ্টিপাতের ব্যাপারটি সম্পুর্ণই প্রাকৃতিক। প্রকৃতির খেয়াল খুশি মতই বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণেই অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির মত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বর্তমান এই দুনিয়ায় প্রাকৃতিক এই ব্যাপারটিও কৃত্রিম ভাবে ঘটানো সম্ভব। কৃত্রিম ভাবে ঘনীভবন ঘটিয়ে বৃষ্টিপাত ঘটানোই হল কৃত্রিম বৃষ্টিপাত বা ক্লাউড সিডিং ।

♦ কৃত্রিম বৃষ্টির ইতিহাসঃ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৬ সালের জুলাইতে বিজ্ঞানী ‘ভিনসেন্ট শেইফার’ প্রথমে কৃত্রিম বৃষ্টির নীতি আবিষ্কার করেন। এরপর আরেক নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী ‘ল্যাংমুর’ একত্রে মিলে কৃত্রিম বৃষ্টি সৃষ্টি করার পন্থা উদ্ভাবন করেন।

শীতলীকরণ যন্ত্রে কৃত্রিমভাবে তৈরি মেঘমালাকে রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পান যে বৃষ্টি সৃষ্টি হতে যে পরিমাণ শীতলতার দরকার বায়ুমণ্ডলের বাষ্পকে মেঘে রুপান্তরিত করতে সে পরিমাণ শীতল এই যন্ত্র করতে পারে না। তখনকার সময় তিনি জানতেন ড্রাই আইস নামক কঠিনিত কার্বন ডাই-অক্সাইডের গুড়ো অনেক ঠাণ্ডা। তিনি পরীক্ষায় ড্রাই আইস ব্যবহার করলেন। এবং অবাক হয়ে আবিষ্কার করলেন সেখানে সৃষ্ট পদার্থ আলোর দারুণ প্রতিফলন করছে। তিনি বুঝতে পারলেন এখানে বরফের কেলাসের সৃষ্টি হয়েছে যা পরিষ্কারভাবে ল্যাম্পের আলোর প্রতিফলন দিচ্ছে। এবং সাথে সাথে উদ্ভাবন করে ফেললেন অতি শীতল করার দারুণ এক উপায়।

এর পর ১৯৪৬ সালের ১৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইংল্যান্ডের একটি অতিশীতল (সুপারকুল) মেঘের ওপর উড়োজাহাজ থেকে শুকনো বরফ (Dry ice) ফেলেছিলেন। তাঁরা লক্ষ করেন যে, এর ফলে তৎক্ষণাৎ তুষার কেলাস সৃষ্টি হচ্ছে এবং সেগুলি দ্রুত বৃষ্টিবিন্দুতে রূপান্তরিত হয়ে পৃথিবীর দিকে নেমে যাচ্ছে।

♦ কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদার্থঃ

কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর জন্য সাধারণত দুটি পদার্থ ব্যাবহার করা হয়-

১. শুকনো বরফ বা ড্রাই আইস (Dry ice)

ড্রাই আইস
ড্রাই আইস

ড্রাই আইস হল কঠিনিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড। প্রচন্ড চাপে সংকুচিত করে কার্বন-ডাই-অক্সাইড কে কঠিনে রূপান্তরিত করা হয়। ড্রাই আইসের তাপমাত্রা মাইনাস ৭৮ ডিগ্রি। অত্যধিক শীতল বলে সাধারণত কোনো কিছুর হিমায়ন ঘটাতে ড্রাই আইস ব্যবহার করা হয়। যেমন আইসক্রিম বানাতে, পচনশীল খাবার সংগ্রহ করতে, হিমঘরে ইত্যাদিতে।

২. সিলভার আয়োডাইড

সিলভার আয়োডাইড
সিলভার আয়োডাইড

সিলভার আয়োডাইড দিয়েও ঘনীভবন সংঘটন করানো যায়। সিলভার আয়োডাইড ড্রাই আইস থেকে কিছুটা ভিন্ন। ড্রাই আইস যেখানে তার প্রভাবে আশেপাশের অণুগুলোকে বরফ কেলাসে পরিণত করে সেখানে সিলভার আয়োডাইড নিজেই কেলাস হিসেবে কাজ করে। সিলভার আয়োডাইড একটি দারুণ পানিপ্রেমী বা হাইগ্রোস্কোপিক পদার্থ।

♦ কৃত্রিম বৃষ্টি তৈরির পদ্ধতিঃ

কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি নামানোর জন্য দুটি পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়- ১) উড্ডয়ন পদ্ধতি বা Flight Method ২) পৃষ্ঠ পদ্ধতি বা Surface Method।

কৃত্রিম বর্ষণের পদ্ধতি
কৃত্রিম বর্ষণের পদ্ধতি

১. উড্ডয়ন পদ্ধতি বা Flight Method

বিমান দিয়ে ট্রপোস্ফিয়ারে মেঘের স্তরের উপরে উঠে কৃত্রিম ঘনীভবন সৃষ্টির জন্য ড্রাই আইস বা সলভার আয়োডাইড ছড়িয়ে দেয়া হয়।

বিমানের মাধ্যমে ড্রাই আইস বা সলভার আয়োডাইড ছড়ানো হচ্ছে
বিমানের মাধ্যমে ড্রাই আইস বা সলভার আয়োডাইড ছড়ানো হচ্ছে

২) পৃষ্ঠ পদ্ধতি বা Surface Method

একটি হচ্ছে ভূমি হতে কামান বা কোনো নিক্ষেপকের মাধ্যমে বায়ুমন্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার এলাকা বা মেঘের দেশে ঘনীভবনকারী পদার্থ রকেটের মাধ্যমে ছুড়ে দেয়া।

কামানের মধ্যে স্থাপন ও নিক্ষেপ করা হচ্ছে কৃত্রিম বৃষ্টির প্রভাবকের “ক্যাপসুল মিসাইল”।
কামানের মধ্যে স্থাপন ও নিক্ষেপ করা হচ্ছে কৃত্রিম বৃষ্টির প্রভাবকের “ক্যাপসুল মিসাইল”।
মিসাইলের মত দেখতে উৎক্ষেপণের রকেট- যেগুলোকে কামানের মাধ্যমে নিক্ষেপ করা হয় আকাশে।
মিসাইলের মত দেখতে উৎক্ষেপণের রকেট- যেগুলোকে কামানের মাধ্যমে নিক্ষেপ করা হয় আকাশে।

রকেট বা মিসাইল কয়েকটি খণ্ডে জোড়া লাগানো থাকে। উপরে ওঠে সে জোড়াগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর রকেটের একটা অংশ নিচে নেমে আসে আরকটা অংশ, যেটায় রাসায়নিক পদার্থ ভরে রাখা হয়, সেটা উপরে চলতে থাকে। যে অংশটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যায় সেটা নামার পথে প্যারাশুটে করে নামে। যাতে নষ্ট না হয়ে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী হতে পারে। নিচের ছবির দ্রব্যষ্ট-

পুনরায় ব্যবহার উপযোগী হতে পারে

#আধুনিক লেজার প্রযুক্তিঃ

উপরের প্রক্রিয়াদুটি অসম্ভব ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে বিজ্ঞানীরা বর্তমানে গবেষণা করছেন স্বল্প ব্যায়ে লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি ঘটানোর জন্য। লেজার প্রযুক্তি হলে এটা ব্যয়বহুল হবার কথা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা মেঘের ওপর উচ্চশক্তির লেজার রশ্মি ফেলে বৃষ্টি নামানোর উপায় বের করতে গবেষণা করছেন।

লেজারের সাহায্যে বৃষ্টি নামানোর কাল্পনিক মডেল।
লেজারের সাহায্যে বৃষ্টি নামানোর কাল্পনিক মডেল।

♦ কৃত্রিম বৃষ্টিপাত সৃষ্টির পর্যায়ঃ

প্রায়শঃ এমন অবস্থা দেখা যায় যে আকাশে মেঘ আছে অথচ বৃষ্টি হচ্ছে না। অতি শীতল মেঘে তুষার কণা জমে যায়, জল আর থাকে না। তখন বিমান থেকে রাসায়নিক ছিটিয়ে অতি শীতল (সুপারকুলিং) অবস্থা নষ্ট করে দেয়া হয় ; মেঘ তখন জলে পরিণত হয় এবং বৃষ্টির ফোঁটায় মাটিতে নিপতিত হয়।

কৃত্রিম বৃষ্টিপাত তিনটি পর্যায়ের মাধ্যমে ঘটানো হয়ে থাকে। যথা-

১. প্রথম পর্যায়ঃ বর্ষন মেঘ সৃষ্টি

নির্দিষ্ট অঞ্চলে রাসায়নিক পদার্থ (ক্যালশিয়াম ক্লোরাইড, ক্যালশিয়াম কার্বাইড, ক্যালশিয়াম অক্সাইড, লবণ যৌগ, ইউরিয়া এবং অয়ামোনিয়াম নাইট্রেট) প্রয়োগের মাধ্যমে বায়ুমন্ডলে আলোড়ন সৃষ্টি করে বায়ুস্তরটিকে উপরের দিকে পাঠিয়ে জলীয়বাষ্প সংগ্রহ করে এবং ঘনীভবন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে বর্ষন মেঘ সৃষ্টি করা হয়।

২. দ্বিতীয় পর্যায়ঃ মেঘপুঞ্জ তৈরি

দ্বিতীয় পর্যায়ে রাসায়নিকের সাহায্যে মেঘপুঞ্জ তৈরি করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ০.০৫-১০ মাইক্রোমিটার মাপের রান্নার লবণ বা সোডিয়াম কেলারাইড, টি-১ ফর্মুলা, ইউরিয়া, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, শুকেনো বরফ এবং কখনো কখনো ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড ব্যবহার করা হয়। এতে মেঘের দ্রুত ঘনীভবন হয় এবং মেঘের মধ্যে জল কেন্দ্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধিপায় ও একত্রিত হয়ে তা বড়ো বড়ো আকারের জলবিন্দুতে পরিনত হয়ে পতনশীল অবস্থায় পৌছায়।

কৃত্রিম বৃষ্টিপাত সৃষ্টির পর্যায়
কৃত্রিম বৃষ্টিপাত সৃষ্টির পর্যায়

৩. তৃতীয় পর্যায়ঃ বৃষ্টিপাত ঘটানো

তৃতীয় পর্যায়ে বিমানের সাহায্যে মেঘরাশির ওপর সিলভার আয়োডাইড নামক রাসায়নিক পদের্থের স্ফটিকদানা (বা কখনো কখনো বিচূর্ণ শুকেনো বরফ বা ড্রাই আইস) ছড়িয়ে দিয়ে মেঘের মধ্যে অস্থির অবস্থার সৃষ্টি করে মেঘধৃত আর্দ্রতাকে বড়-বড় জলের ফোঁটায় পরিণত করা হয় যা আর বাতাসে ভাসতে না-পেরে মাটিতে নেমে আসে এবং বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়। বিকল্পে, মেঘপুঞ্জ লক্ষ্য করে রাসায়নিকপূর্ণ রকেট ছোঁড়া হয়ে থাকে।

আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করে রাখুন প্রতিনিয়ত আপডেট পাওয়ার জন্য

♦ কৃত্রিম বৃষ্টিপাত সৃষ্টি তত্ত্ব-

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিজ্ঞানিদের দ্বারা কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর তত্ত্ব দেওয়া হয়েছে। যেমন-

১. মেঘের রূপান্তর তত্ত্ব (১৯৪৬)-

এই তত্ত্বটি দেন ভিনসেন্ট শেইফার ও ল্যাঙমুর। পূর্বে আলোচিত হয়েছে এটি।

২. B. Vonnegut-এর তত্ত্ব (১৯৪৯)-

১৯৪৯ সালে আর এক আমেরিকান বৈজ্ঞানিক B. Vonnegut কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের অপর একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এই পদ্ধতিতে -৫ ডিগ্রি উষ্ণতার নীচে সিলভার আয়োডাইড ব্যবহার করে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানো সম্ভব। সিলভার আয়োডাইডের সূক্ষ্ণ গূঁড়ো কেন্দ্রাণূ হিসাবে কাজ করে বরফ-কেলাস সৃষ্টি করে। উড়োজাহাজ বিস্ফোরক রকেট অথবা বেলুনের সাহায্যে উপযুক্ত মেঘের মধ্যে সিলভার আয়োডাইডের ধোঁয়া প্রবেশ করানো হয়। সিলভার আয়োডাইডের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, Acentone নামক প্রচন্ড দাহ্য রাসায়নিক দ্রাব্য দিয়ে একে যখন পোড়ানো হয় তখন প্রচন্ড তাপে এটি বাষ্পে পরিনত হয়।

৩. Bowen-এর ঝাঁটানো তত্ত্ব-

এই প্রক্রিয়াটি Lindlam-এর Double Sweep Theory-র ওপর নির্ভর করে এবং এটি উষ্ণ মেঘের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই পদ্ধতিতে প্রায় ১০ মাইক্রন ব্যাসের জলবিন্দু ছড়িয়ে দেওয়া হয় যাতে এগুলো তাদের ঊর্ধ্বগতি ও অধোগতির দ্বারা অতি সূক্ষ্ণ মেঘ কণাকে তাড়িত করে আকারে বড়ো হয়।

৪. জল কেন্দ্রাণু মতবাদ-

অপর একটি পদ্ধতি হল মেঘের মধ্যে সূক্ষ্ণ চূর্ণ-লবণের অনুপ্রবেশ ঘটানো। এই কণাগুলি জল কেন্দ্রাণু হিসাবে কাজ করে। যেহেতু এই ধরনের কেন্দ্রাণু মেঘের মধ্যে সবসময় যথেষ্ট পরিমানে থাকে। তাই এই অনুপ্রবেশের মাধ্যমে শুধু বড়ো কেন্দ্রাণুর অনুপাত বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়, যা মেঘে বৃষ্টিবিন্দুর সৃষ্টিকে ত্বরান্বিত করে।

সমাপ্ত

© কপি রাইটস্টুডেন্টস কেয়ার দ্বারা সংরক্ষিত। অনুমতি ব্যাতীত কপি করা নিষিদ্ধ

এখন আপনিও হতে পারেন স্টুডেন্টস কেয়ারের লেখক

আমাদের ব্লগে যদি কোনো লেখক লেখা পাঠাতে চান তাহলে আমাদের নীতিমালা অনুসরণ করে আমাদের Privecy Policy – অনুসারে লেখা পাঠানোর জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন।

ট্যাগ- কৃত্রিম বৃষ্টিপাত, কিভাবে ক্লাউড সিডিং বা কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানো হয়, ক্লাউড সিডিং বা কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর পদ্ধতি, ক্লাউড সিডিং বা কৃত্রিম বৃষ্টিপাত

এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 382
    Shares
error: স্টুডেন্টস কেয়ার কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত !!