স্টিফেন উইলিয়াম হকিং (১৯৪২-২০১৮) এর পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত জীবনী | অজানা তথ্য

এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 7.4K
    Shares

স্টিফেন উইলিয়াম হকিং (৮ জানুয়ারি ১৯৪২- ১৪ মার্চ ২০১৮)

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান এবং কসমোলজি – এই দুই ক্ষেত্রের একজন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী হলেন Stephen W. Hawking। আধুনিক যুগের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা করলে যাঁর নাম শীর্ষে থাকবে। বাবার ইচ্ছায় ডাক্তারি না পড়ে পদার্থবিজ্ঞানে পড়া স্টিফেন উইলিয়াম হকিংকে বলা হয় আইনস্টাইনের পর এই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিভাবান বিজ্ঞানী।স্টিফেন হকিং, এক কিংবদন্তি। ১৪ই মার্চ ২০১৮ তে আমরা এই কিংবদন্তিকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেললাম। হ্যাঁ তিনি আর আমাদের সাথে নেই। ওনার প্রতি আমরা গভীর শোকজ্ঞাপন করে আজ আমরা আপনাদের সামনে ওনার কিছু কৃতিত্ব তুলে ধরবো। যারা এখনো ওনার সম্পর্কে সঠিক ও পরিপূর্ণ ভাবে জানেনা তাদের কে জানানোর জন্য আমরা এই প্রচেষ্টা করলাম। চলুন দেখে নেই আমাদের মনে অমর হয়ে থাকা এই মহান ব্যক্তির সম্পর্কে কিছু তথ্য-

 (১) জন্মঃ

১৯৪২ সালের ৮ই জানুয়ারি স্টিভেন হকিংয়ের জন্ম, ব্রিটেনের অক্সফোর্ডে। মজার বিষয় হল, দিনটি গ্যালিলিও এর জন্মের ঠিক ৩০০ তম মৃত্যুবার্ষিকীর দিন।

(২) মৃত্যুঃ

পারিবারিক মুখপাত্র অনুযায়ী হকিন্স ১৪ মার্চ ২০১৮ তে কেমব্রিজে, তাঁর বাসভবনে মারা যান। মনে রাখুন, তিনি মৃত্যুবরণ করলেন আইনস্টাইনের জন্মবার্ষিকীতে। হয়ত মহান ব্যক্তিদের ছায়া এভাবেই এগিয়ে চলে!

(৩) পরিবার-

হকিংয়ের বাবা ড. ফ্রাঙ্ক হকিং একজন জীববিজ্ঞান গবেষক ও মা ইসোবেল হকিং একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন। হকিংয়ের বাবা-মা দুজনের ছোটো পরিবারটি উত্তর লন্ডনে ছিল। কিন্তু সেই সময় লন্ডন তথা ব্রিটেনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজছে। হকিং গর্ভে আসার পর তারা নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন এবং অক্সফোর্ডে চলে যান। হকিংয়ের জন্ম হয় অক্সফোর্ডে। হকিং এর পরিবারে হকিং একা নয়, সাথে ফিলিপ্পা ও মেরি নামে হকিংয়ের দুই বোন রয়েছে। এছাড়া হকিং পরিবারে এডওয়ার্ড নামে এক পালকপুত্রও ছিল। কিন্তু স্টিভেনের জন্মের পর যুদ্ধের প্রভাব কমে গেলে তাঁরা আবার লন্ডনে ফিরে আসেন। সেখানে স্টিভেনের বাবা “ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল রিসার্চের” প্যারাসাইটোলজি বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পান।

আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন এখানে ক্লিক করে।

(৪) হকিং এর স্কুল ও কলেজ জীবন-

১৯৫০ হকিংদের পরিবার হার্টফোর্ডশায়ারের সেন্ট অ্যালবাতে চলে যান। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত হকিং সেন্ট অ্যালবার নামক একটি মেয়েদের স্কুলে পড়তেন। [কারন সে সময় ১০ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলেরা মেয়েদের স্কুলে পড়ার অনুমতি পেতো](সূত্র- Stephen Hawking A Biography, Greenwood Press। ১৯৯৫)। এর পর যদিও স্কুল পরিবর্তন করে। তিনি কিন্তু বিদ্যালয়ে পড়াশোনাতে খুব একটা ভালো ছিলেন না, অর্থাৎ স্কুলে তাঁর রেজাল্ট ভালো ছিল বটে তবে অসাধারণ ছিল না। প্রচলিত আছে নাকি যখন তার বয়স ছিল নয় বছর তখন তিনি ছিলেন ক্লাসের সর্বশেষ মেধাক্রমের ছাত্র অর্থাৎ পেছনের দিক থেকে প্রথম।(সূত্রঃ লার্সেন) কিন্তু বিজ্ঞানে হকিংয়ের সহজাত আগ্রহ ছিল। আর এই আগ্রহের পেছনে যেনার ভূমিকা ছিল তিনি আর কেউ নন, হকিং এর স্কুলের গণিত শিক্ষক ডিকরান তাহতা। শিক্ষক ডিকরান তাহতার অনুপ্রেরণার কথা হকিং পরবর্তী জীবনে স্মরণ করতে ভুলে যান নি।(সূত্র-“Dick Tahta”। The Guardian। সংগৃহীত ২০০৮-০৫-১৯)।

হকিংয়ের বাবার পূর্ব ইচ্ছে ছিল হকিং যেন তাঁর মতোই ডাক্তার হয়। এর পেছোনের কারনটি হল অর্থাভাব  কিন্তু হকিং গণিত পড়বে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিলেন। স্টিফেন হকিং তাই অংশগ্রহণ করলেন স্কলারশিপ পরীক্ষায় এবং টিকেও গেলেন সফলতার স্বাক্ষর রেখে। তারপর স্বাভাবিক ভাবেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি কলেজে ভর্তি হয়ে যান। কিন্তু এখানেও একটি সমস্যা দেখা দিয়েছিল, সেই সময় যেহেতু সেখানে গণিতের কোর্স পড়ানো হতো না, সেজন্য হকিং সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন যে তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়া শুরু করবেন। সেই সময়ে তাঁর আগ্রহের বিষয় ছিল তাপগতিবিদ্যা, আপেক্ষিকতা এবং কোয়ান্টাম বলবিদ্যা প্রভৃতি।

(৫) ডাক নাম-

অক্সফোর্ডে থাকাকালীন সময়ে পড়াশোনা ও নম্বর মোটামুটি পেলেও, বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর মনযোগ ও দ্বায়বদ্ধতার জন্য তাঁর বন্ধুরা তাঁকে আইনস্টাইন নামে ডাকত।

(৬) গবেষনা কাল ও ক্ষেত্র-

হকিংয়ের প্রধান গবেষণা ক্ষেত্র হল তত্ত্বীয় কসমোলজি ও কোয়ান্টাম মধ্যাকর্ষ। ১৯৬০ এর দশকে ক্যামব্রিজের বন্ধু ও সহকর্মী ‘রজার পেনরোজ’ দুজনে মিলে হকিং আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব থেকে একটি নতুন মডেল তৈরি করেন। সেই মডেলের উপর ভিত্তি করেই ১৯৭০ এর দশকে হকিং প্রথম তাঁদের তত্ত্বের প্তথম ধাপটি প্রমান করেন। যেটি “পেনরোজ-হকিং তত্ত্ব” নামে পরিচিত। এই তত্ত্বের প্রমানের পর পরিষ্কার হয়ে গেলো যে, এককত্বের বীজ লুকোনো ছিল আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বে।(সূত্র) প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পি. এইচ. ডি উপদেষ্টা ছিলেন ডেনিস শিয়ামা। ১৯৭৪ সালে হকিং রয়াল সোসাইটির অন্যতম কনিষ্ঠ ফেলো নির্বাচিত হন।

(৭) মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ফিরে আসা-

১৯৬২-৬৩ সালের দিকে গবেষণায়রত সময়ে হকিং এ.এল.এসের (এমায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস বা লাউ গেহরিগ রোগ – যা একপ্রকার মোটর নিউরন রোগ) অসুখের কথা প্রথম জানতে পারেন। আমেরিকায় এই রোগটির নাম লো গ্রেইরিজ ডিজিজ। চিকিৎসকের ভাষ্যমতে, হকিং আর মাত্র দু-আড়াই বছর বাঁচতে পারবেন। কিন্তু হকিং ডাক্তারদের কথায় কর্নপাত করেন নি। তিনি তাঁর স্বাভাবিক জীবন চালনা করে গিয়েছেন, বেশির ভাগ সময় নিজেকে গবেষণার কাজে নিযুক্ত করে রাখতেন। তাঁর মতে- যদি তিনি ডাক্তারদের কথা শুনে ভেঁঙে পড়তেন তাহলে সেই মুহুর্তেই তাঁর মানসিক মৃত্যু হত।  তবে অবাক করা ব্যাপার হল, সেই হকিং প্রায় পাঁচ দশক ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গিয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়, সময়টা ১৯৮৫। সেই সময় ও একবার মৃত্যুর মুখ থেকে তিনি ফিরে আসেন। ১৯৮৫ সালে জেনেভার একটি সম্মেলনে (CERN) অংশগ্রহন করা কালীন তিনি অসুস্থবোধ করেন, জানা যায় তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং প্রচন্ড কষ্ট পেতে শুরু করেছিলেন। চিকিৎসকরাও তাঁর কষ্ট দেখে একসময় লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ৷ কিন্তু তাঁর স্ত্রী ‘জেন’ এই প্রস্তাবে রাজি হননি। এই ভাবে তিনি সারাটা জীবন কষ্ট করে গিয়েছেন এবং এই কষ্টের মুক্তি ঘটিয়েছেন তাঁর বিখ্যাত বিখ্যাত আবিষ্কারের মাধ্যমে।

স্টিফেন হকিং এর লেখা বই গুলি pdf আকারে Dawnload করার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

তাঁর জীবনী নিয়ে একটি চলচিত্র প্রকাশ কালে তিনি বলেছিলেন ‘নিউমোনিয়ার ধকল আমি সহ্য করতে পারি নি, কোমায় চলে গিয়েছিলাম। তবে চিকিৎসকরা শেষ অবধি চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন , হাল ছাড়েননি ৷’

(৮) তাঁর বেঁচে থাকার কথা-

তিনি ১৯৬০ এর দশক থেকেই হুইল চেয়ারের ব্যবহার করেন। ১৯৮৫ সালে নিউমোনিয়া রোগে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরে এলেও তাঁর বাকশক্তি হারিয়ে যায়। এরপর কিছু সময় ইংরেজি শব্দ যুক্ত বোর্ডের মাধ্যমে চোখের ইশারায় ভাব প্রকাশ করতে হত। এর পর স্পীচ জেনারেটিং ডিভাইস যুক্ত সয়ংক্রিয় কমপিউটারের মাধ্যমে ভাব প্রকাশ করার সুযোগ পান, যেটি তিনি মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ব্যবহার করে এসেছেন। এর মাধ্যমেই তিনি তাঁর মহার সকল কৃতিত্ব স্থাপন করে গিয়েছেন। তিনি একটি সাক্ষাতকারে জানিয়েছিলেন- “১৯৮০ সালে তিনি একবার নিজের শ্বাসরোধ করে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন”

অসুস্থ হকিং হুইল চেয়ারে বসে আছেন
চিত্রে দেখতে পাচ্ছেন অসুস্থ হকিং হুইল চেয়ারে বসে আছেন

(৯) প্রণয় ও পরিণয়ঃ

৬২ সালের এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে ভাষাতত্ত্বের ছাত্রী জেনের সঙ্গে লাভ অ্যাট ফাস্ট সাইট হওয়ার আগেই কিন্তু হকিংয়ের অসুস্থতা ধরা পড়েছিল। জেন ওয়াইল্ডের এক অনন্য ভালোবাসার নাম। কেননা স্টিফেন হকিংয়ের আয়ু দুই বছর জেনেও বিয়ের আসরে বসেছিলেন তিনি। জেনের  মতে প্রাণবন্ত হকিংকে দেখেননি কখনো। জেনের ভালোবাসা তাই অসুস্থ হকিংকে ঘিরেই। হকিং তার এক বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘বিয়ের কারণে আমি বেঁচে থাকতে, এগিয়ে যেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হলাম। জেন আসলেই আমার বেঁচে থাকার প্রথম প্রেরণা”। কিন্তু ১৯৯৫ সালে জেইনের সাথে তার ডিভোর্স হয়ে যায়। আর ১৯৯০ সাল থেকে সেবা করে যাওয়া এক নার্সকে বিয়ে করেন হকিং। ২০০৬ সালের দিকে সেই সম্পর্কেরও ইতি টানেন তিনি। জেইনের সাথে পুনরায় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। জেন তাঁর অবিব্যক্তি প্রকাশের জন্য একটি বই লেখেন। যার নাম Travelling to Infinity: My Life with Stephen.

হকিং এবং তাঁ স্ত্রী জেন
চিত্রে হকিং এবং তাঁ স্ত্রী জেন

(১০) কর্মজীবন-

হকিং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লুকাসিয়ান দীর্ঘ দিন যাবত অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত থাকার পর ২০০৯ সালের ১ অক্টোবর অবসর গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি কেমব্রিজের গনভিলি এবং কেয়াস কলেজের ফেলো হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

(১১) হকিংয়ের অবদান-

কৃষ্ণ গ্বহর
কৃষ্ণ গ্বহর

স্টিফেন উইলিয়াম হকিং এর অবদানারের ব্যপারে লিখে আপনাদের বোঝানোর সাধ্য আমাদের মত সামান্য ব্যক্তি বর্গের নেই। তবে তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি অবদান সংক্ষেপে তুলে ধরছি। ১৯৮৩ সালে জিম হার্টলের সাথে আবিষ্কার করেন মহাবিশ্বের আকার আকৃতি সর্ম্পকে অজানা তথ্য। হকিংয়ের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা এবং বোর-হাইজেনবার্গের কোয়ান্টামতত্ত্বকে মিলিয়ে দেওয়া। ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হওয়া ‘অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’ বইয়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত হয়ে ওঠেন হকিং।

A Brief History of Time
A Brief History of Time

বইটিতে তিনি মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য নিয়ে  তত্ত্ব প্রদান করেন। বিগ ব্যাং থেকে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গ্বহর তত্ত্বের যুগান্তকারী আকিষ্কারে তিনি গোটা পৃথিবীর বিজ্ঞান জগতকে নাড়িয়ে দিয়ে গিয়েছেন। ২৩৭ সপ্তাহ ধরে সানডে টাইমস বেস্ট সেলার থাকার কারণে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে ঠাঁই পায়। মহাবিশ্ব নিয়ে প্রকাশিত তাঁর সর্বশেষ বই ‘দ্য গ্র্যান্ড ডিজাইন’। তাঁর “A Brief History of Time” বা “কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস” বইটির বিভিন্ন অধ্যায় গুলি এক নজরে দিলাম

১. মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের চিত্র(Our Picture of the Universe)

২. স্থান ও কাল(Space and Time)

৩. প্রসারণশীল মহাবিশ্ব(The Expanding Universe)

৪. অনিশ্চয়তার নীতি(The Uncertainty Principle)

৫. মৌলকণা ও প্রাকৃতিক বল(Elementary Particles and the Forces of Nature)

৬. কৃষ্ণগহ্বর(Black Holes)

৭. কৃষ্ণগহ্বর অত কালো নয়(Black Holes Ain’t So Black)

৮. মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও পরিণতি(The Origin and Fate of the Universe)

৯. সময়ের তীর, ওয়ার্ম হোল এবং সময় পরিভ্রমণ(The Arrow of Time, Wormholes and Time Travel)

১০. পদার্থবিদ্যাকে ঐক্যবদ্ধ করা(The Unification of Physics)

কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
বাংলা ভাষায় হকিং এর কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

নিম্নে এক নজরে তাঁর কিছু অবদান এক নজরে দেখানো হল-

  • হকিং বিকিরণ
  • পেনরোজ-হকিং তত্ত্ব
  • বেকেনস্টাইন-হকিং সূত্র
  • হকিং শক্তি
  • Gibbons–Hawking ansatz
  • Gibbons–Hawking effect
  • Gibbons–Hawking space
  • Gibbons–Hawking–York boundary term
  • Thorne–Hawking–Preskill bet
  • কৃষ্ণবিবর
  • তত্ত্বীয় সৃষ্টিতত্ত্ব
  • কোয়ান্টায়িত মহাকর্ষ

(১২) পুরস্কার-

হকিংয়ের পাওয়া উল্লেখযোগ্য পুরস্কারগুলি হল-

১৯৬৬ সালের অ্যাডামস পুরস্কার

১৯৭৫ সালের এডিংটন পদক

১৯৭৬ সালের হিউ পদক,

১৯৭৬ সালে ম্যাক্সওয়েল মেডেল এবং প্রাউজ

১৯৭৬ সালে Heineman Prize

১৯৭৯ সালের আলবার্ট আইনস্টাইন পদক,

১৯৮৮ সালের উলফ পুরস্কার,

১৯৮৯ সালের প্রিন্স অফ অস্ট্রিয়ানস পুরস্কার,

১৯৯৮ সালের Andrew Gemant Award

১৯৯৯ সালের Naylor Prize and Lectureship

১৯৯৯ সালের জুলিয়াস এডগার লিলিয়েনফেল্ড পুরস্কার,

১৯৯৯ সালে প্রাপ্ত Lilienfeld Prize

১৯৯৯ সালে Albert Medal (Royal Society of Arts)

২০০৬ সালে কোপলি পদক

presidential medal of freedom stephen hawking
আমেরিকার প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম পদক দিয়ে সন্মানিত করছেন তৎকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা

২০০৯ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম পদক।

২০১২ সালের ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্স প্রাইজ

২০১৫ সালের BBVA Foundation Frontiers of Knowledge Award

জীবনে এতগুলি পুরষ্কার পেলেও তাঁর জীবনে পুরস্কারের অভাব রয়েই গিয়েছে, সেটি নোবেল পুরস্কার। অর্থাৎ স্টিফেন উইলিয়াম হকিং এখন পর্যন্ত নোবেল পুরস্কারের অংশীদার হননি। ভাবার বিষয় এটি এবং বিতর্কিত ও বটে!

(১৩) থ্রোন-হকিং-প্রেসকিল বাজি-

১৯৯৭ সালে ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণ গহ্বরের বিষয়ে একটি বাজি ধরেছিলেন স্টিভেন হকিং। বাজিতে তাঁর পক্ষে ছিলেন আর এক পদার্থ বিজ্ঞানী কিপ থ্রোন (Kip Throne) এবং অন্য পক্ষে ছিলেন জন প্রেসকিল (John Preskill) । পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে এই বাজি Thorne–Hawking–Preskill bet  নামে পরিচিত। ২০০৪ সালে হকিং নিজেই স্বীকার করেন যে তিনি বাজিতে হেরেছেন।

(১৪) সন্মান প্রদান-

হকিং এর কাজে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে তাঁকে সন্মানিত করা হয়েছে-

১. ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রানি তাকে ‘অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার’ এবং ‘অর্ডার অব দ্য কম্প্যানিয়ন’ অনারে ভূষিত করেন।

২. মধ্য আমেরিকার দেশ এল ‘সালভাদর’ তাদের রাজধানী সান সালভাদরের বিজ্ঞান জাদুঘরটির নাম হকিংয়ের নামে রাখে।

৩. ২০০৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বীয় কসমোলজি কেন্দ্রে হকিংয়ের একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়।

৪. ২০০৮ সালের হকিংয়ের মূর্তি উন্মোচন করা হয় দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে অবস্থিত আফ্রিকান ইনস্টিটিউট অব ম্যাথমেটিক্যাল সায়েন্সের সামনে।

(১৫) হকিং এর কাছে পি. এইচ. ডি করা ছাত্র তালিকা-

স্টিফেন উইলিয়াম হকিং এর কাছে পি. এইচ. ডি করা কিছু ছাত্রের নাম দেওয়া হল- ব্রুস অ্যালেন, Raphael Bousso, বার্নার্ড কার, ফে ডাউকার, Christophe Galfard, গ্যারি গিবনস, Thomas Hertog, রেমন্ড লাফ্লেম, ডন পেইজ, ম্যালকম পেরি, Wu Zhongchao

(১৬) সারা বিশ্ব থেকে বাছাই করা ১০টি প্রশ্ন ও উত্তর-

সারা বিশ্বের অনুসন্ধিত্সু মানুষের কাছ থেকে বাছাই করে ১০টি প্রশ্ন করা হয়েছিল হকিংকে। সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর তিনি দিয়েছিলেন। নিচের ভিডিওটিতে দেখে নিন তিনি ঠিক কি কি বলেছেন।

(১৭) থিওরি অফ এভরিথিং-

The-Theory-Of-Everything-
হকিং এর জীবনীর অনুকরণে বানানো চলচিত্রের একটি পোস্টার

২০১৪ সালে হকিং এর জীবনী কে নিয়ে নির্মিত বিখ্যাত চলচিত্র “থিওরি অফ এভরিথিং”। দেখতে ভুলবে না। খুবি অনুপ্রেরণা দায়ক ।

(১৮) ছোটোদের বই লিখেছেন-

২০০৭ সালে স্টিফেন উইলিয়াম হকিং তার মেয়ে লুসি হকিং এর সাথে মিলে লিখেছিলেন ছোটোদের বই “George’s secret Key to the Universe” যা জর্জ নামের ছোটো বালকের কাহিনী কিন্তু যাতে রয়েছে ব্ল্যাকহোলসহ নানা বৈজ্ঞানিক ধারণা। এবং ২০০৯ সালে বের হয়েছে এই বইয়ের পরবর্তী পর্ব।

স্টিফেন হকিং শুরু থেকেই উন্নত মস্তিষ্ক নিয়ে জন্ম গ্রহণ করেননি, বরং জীবনের চলার পথে বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাতে মোকাবিলা করার সাথে সাথে তিনি তাঁর মস্তিষ্ককে উন্নত থেকে উন্নততর করেছেন। আমরা যারা অল্প শোকেই কাতর হয়ে পড়ি, দুর্বল মস্তিষ্কের স্বীকারে ভুগি তাদের কাছে হকিং একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। জীবনে অসংখ্য শারীরিক মানসিক সমস্যা অতিক্রম করেও কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় সেটার পাথেয় হয়ে আমাদের সকলের মনে অমর হয়ে থাকবেন স্যার স্টিফেন হকিং। অবশেষে এটুকুই বলতে পারি যেখানেই থাকুন ভাল থাকুন এবং আশির্বাদ করুন আপনার ছড়িয়ে দিয়ে যাওয়া বীজ গুলি থেকে যেন আপনার মত বৃক্ষরাজি সৃষ্টি হয়ে এই জগতকে আপনার আলোকে আলোকিত করে তুলতে পারে!

 

বিঃ দ্রঃ পরবর্তীতে যদি কোনো তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে সময়ের সাথে সাথে পোস্টটি আপডেট হতে থাকবে। আপনারাও আমাদের তথ্য দিয়ে মেল করতে পারেন (helpline.studentscare@gmail.com)। আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন এখানে ক্লিক করে।

 তথ্য সংগ্রহেস্টুডেন্টস কেয়ার

তথ্য সূত্র-

উইকিপিডিয়া ১

উইকিপিডিয়া ২

www.biography.com

You Tube


এখান থেকে শেয়ার করুন
  • 7.4K
    Shares
error: স্টুডেন্টস কেয়ার কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত !!